দোষী সাব্যস্ত ট্রাম্প: জেনেনিন কী শাস্তি হতে পারে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের?

অপরাধের জন্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনীতিতে এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সাবেক পর্নো তারকাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য টাকা দেওয়ার মামলায় ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন আইনে কাউকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য টাকা দেওয়াকে হাশ মানি বলা হয় যা বেআইনি নয়, তবে টাকাটা দিতে গিয়ে ব্যবসায়িক রেকর্ডে জালিয়াতি করেছেন ট্রাম্প। এজন্য নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনে ফেঁসে যান তিনি।
আগামী ১১ জুলাই ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করবেন আদালত। এর ঠিক চার দিন পরই রিপাবলিকান পার্টির দলীয় কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করার কথা। ঐতিহাসিক এ রায়ের পরিণতি কী তা তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত অস্পষ্ট।

ট্রাম্প কী জেলে যাবেন?

এটা বলা অনিশ্চিত। ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাম্পের এক থেকে তিন অথবা চার বছর জেল হতে পারে। তবে যারা ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতি করেছে নিউইয়র্কে তাদের জেলে পাঠানোর ঘটনা খুবই বিরল। এক্ষেত্রে শাস্তি স্বরূপ তাদের জরিমানা করা হতে পারে।

এখন যদি ট্রাম্পের জরিমানার পরিবর্তে অন্য কোনো সাজা হয়, তাহলে তাকে জেলে নেয়ার পরিবর্তে গৃহবন্দি করা হতে পারে অথবা কারফিউ জারির বিষয়টি সামতে আসতে পারে। কারণ সাবেক প্রসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাছে লাইফটাইম সিক্রেট সার্ভিসের বিশদ তথ্য রয়েছে। এজন্য জেলের বাইরে তাকে নিরাপদে রাখা কঠিন হতে পারে। যদি ট্রাম্প এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তাহলে তাকে মুক্তি দেয়া হতে পারে।

আদালতের যা করণীয়

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারপতি জুয়ান মারচেন এখন একটি চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করবেন। যদিও এটি একটি আনুষ্ঠানিকতা। অপরাধের শাস্তি অনুযায়ী নিউইয়র্ক আদালতের রায় অনুযায়ী অপরাধীকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাজা প্রদান করা হয়। রায়ের পরে আইনি লড়াইয়ের কারণে তা আরো বিলম্বিত হতে পারে। এ সময়ের মধ্য আইনজীবী এবং প্রসিকিউটররা ট্রাম্পকে শাস্তি প্রদানে শুনানি করবেন। পরবর্তীতে বিচারপতি জুয়ান মারচেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

রায়ের বিরুদ্ধে কী ট্রাম্প আপিল করবেন?

আদালতের রায় হলে ট্রাম্প দ্রুতই এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন। যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্প কি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী হতে হবে এবং বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। এছাড়া ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। যা ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে। যদি শপথ গ্রহণের আগে ট্রাম্পের জেল হয়, তাহলেও তিনি জেল থেকে শপথ নিতে পারবেন। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দোষী সাব্যস্তের রায় নির্বাচনকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে?

ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা ট্রাম্পের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এপ্রিল মাসে করা রয়টার্সের একটি জরিপে বলা হয়, ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে চারজনের মধ্যে একজন রিপাবলিকান বলেছেন যে তাঁকে ভোট দেবেন না। এছাড়া ৬০ শতাংশ সাধারণ মানুষও জানিয়েছেন যে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবে না।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুখ না খুলতে ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দিয়ে সাবেক পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া, এই অর্থ দেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক রেকর্ডেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

চলতি বছরের নভেম্বরে আমেরকিায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।