বিশেষ: যে কারণে বাড়ছে প্রচন্ড গরম, আমাদের করণীয় কী?

তীব্র গরমে বাইরে বের হতে ভাবতে হচ্ছে সাতবার। যারা বের হচ্ছেন; তারা অনেকেই ব্যবহার করছেন ছাতা। শ্রমজীবীরা দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে মাথায় দিচ্ছেন গামছা বা পরছেন ক্যাপ। ছায়া পেতে গাছের নিচ দিয়ে চলার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। তবে রাজধানীর বুকে সেই সুযোগ কতটুকু! বিপাকে বেশি পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। দাবদাহ সহ্য করেই চালিয়ে যাচ্ছেন কাজ।
যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে এখনই উদ্যোগ না নিলে বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে উঠবে। রাজধানীর পাশাপাশি জেলা শহরগুলোও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, হিটস্ট্রোক ও বমির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকেই।
একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মোট ভূখণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ অনেক কম। যা দিন দিন আরও কমছে। বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে এবং আবহাওয়া হচ্ছে উত্তপ্ত। পুকুর, দীঘি, জলাশয় ইত্যাদি ভরাট করায় শুষ্ক ও রুক্ষ হচ্ছে পরিবেশ। কোথাও কোথাও বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রোধ করার ফলে শুকিয়ে চর হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
এসব দুর্যোগ থেকে বাঁচতে গাছ লাগানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই বন নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। কেননা গাছ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছড়িয়ে দেয়। ফলে উষ্ণতা কিছুটা কম থাকে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বলেন‘যেই যেই কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে; সেই বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে হবে। যেমন সবুজের পরিমাণ বাড়াতে হবে, জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে, প্রয়োজনে সংযোজন করতে হবে, বহুতল ভবনগুলোর অতিরিক্ত গ্লাস ও এসির পরিমাণ কমাতে হবে। পরিবেশবান্ধব এই কাজগুলো করলেই দাবদাহ কমিয়ে আনা সম্ভব।’
তাই ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ভাবেও বনায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যত বেশি গাছ লাগানো হবে; ততবেশি কার্বন শোষিত হবে, পরিবেশ হবে শীতল। গাছ লাগানোতে উৎসাহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখা উচিত। তবেই আমাদের মাতৃভূমি মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।