“গোপাল বেঁচে থাকলে নিশ্চিত টিকিট পেতেন!” ভোটবঙ্গে ‘সুপারহিট’ গোপাল ভাঁড় কি কাল্পনিকই?

লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চরমে। এই আবহে নবজাগরণ লাভ করেছে এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার বিদূষক গোপাল ভাঁড়। তাকে নিয়ে দাবি-পাল্টা দাবির ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কৃষ্ণনগর, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড় – এই ত্রিভুজকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
গত কয়েক দিনে গোপালকে নিয়ে এত রকমের দাবি সামনে এসেছে যে, অনেকে মজা করে বলছেন, “গোপাল বেঁচে থাকলে নিশ্চিত টিকিট পেতেন!”।
এই বিতর্কের তীব্রতা বেড়েছে দিনকয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়ের ফোনে কথোপকথনের পর। রাজপরিবারের সদস্যা অমৃতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করেন, কৃষ্ণচন্দ্রের ব্রিটিশদের পক্ষে যোগদান নিয়ে বিরোধীরা অপপ্রচার করছে। বরং সনাতন ধর্মকে রক্ষা করার জন্যেই রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ব্রিটিশদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন।
এই প্রসঙ্গেই গোপাল ভাঁড় নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছেন। কৃষ্ণনগরে গোপালের স্মৃতিতে তৈরি নাগরিক কমিটির সদস্যরা তাদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। তারা গোপাল ভাঁড়ের অস্তিত্বের স্বীকৃতি, লোকমুখে প্রচলিত স্মৃতি বিজড়িত এলাকা ও বাড়িগুলিকে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছেন। কার্টুন চরিত্রের বদলে গোপাল ভাঁড়ের ‘বাস্তবিক’ রূপের মূর্তি স্থাপনের দাবিও জানাচ্ছেন তারা।
এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে থামবে, কে জানে? তবে এটা স্পষ্ট, গোপাল ভাঁড় কেবল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নয়, বরং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতীকও হয়ে উঠেছেন।
বাংলার পলাশির যুদ্ধ, ষড়যন্ত্রের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত কাজ করেছেন ইতিহাসবিদ রজতকান্ত রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘গোপাল ভাঁড়ের রাজনৈতিক কোনও অভিসন্ধির কথা আমি অন্তত পাইনি। অন্য কোনও জায়গাতেও আমি পাইনি যে, গোপাল ব্রিটিশদের সঙ্গে কৃষ্ণচন্দ্রের হাত মেলানোর বিরুদ্ধে বা পক্ষে ছিলেন। তবে আমার মনে হয়, গোপাল ভাঁড় একেবারে কাল্পনিক চরিত্র নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সোর্সেই গোপালের অস্তিত্বের দাবি করা হয়েছে।’