স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিলেন জামাই, শোরগোল গোটা এলাকা

বাংলাদেশের পটুয়াখালীর বাউফলে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া এবং বিরোধে জেরে শ্বশুরবাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে।
সোমবার বিকেলে বাউফল পৌরশহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ঐ এলাকার জয়নাল হাওলাদারের ছেলে ফয়সাল হাওলাদার (২৫) তার আপন চাচা রফিক হাওলাদারের মেয়ে আঁখিনুরকে (২২) পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এছাড়া ফয়সাল মাদক সেবন করে প্রায়ই স্ত্রী আঁখিনুরকে মারধর করতেন। এজন্য অধিকাংশ সময়ই বাবার বাড়ি থাকতেন আঁখিনুর। ফয়সালের বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। রোববার রাতে আঁখিনুরকে জোর করে শ্বশুরের ঘর থেকে নিয়ে যান ফয়সাল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার বাবা রফিক হাওলাদার আঁখিনুরকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
ফয়সাল এতে ক্ষুব্ধ হন। তিনি সোমবার বেলা ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় শাশুড়িকে পিটিয়ে আহত করেন তিনি। পরে বিকেলের দিকে ফয়সাল শ্বশুরের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তার শ্বশুর রফিক হাওলাদারসহ চাচা শ্বশুর শাহআলমের ঘরও পুড়ে যায়। এ ঘটনার প্র থেকে অভিযুক্ত ফয়সাল সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। এজন্য তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
এ বিষয়ে শাহআলমের স্ত্রী নুন নাহার অভিযোগ করে জানান, বউ দিতে না চাওয়ায় ফয়সাল তার শ্বশুরের ঘরে আগুন দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘর হওয়ায় সেই আগুনে তার ঘরও পুড়ে যায়।
তাদের এক প্রতিবেশী জানান, ফয়সাল মাদকাসক্ত। তিনি নিজের শাশুড়িকে মারধর করেন। এজন্য ফয়সালের শাশুড়ি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই ফাঁকা ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে বাউফল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল লতিফ খান বাবুল জানান, ফয়সাল মাদকাসক্ত। তার স্বজনদের বেশ কয়েকবার বলার পরেও তারা ফয়সালকে সংশোধন করেননি।
বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।