পুরুষদের বুকে বেশি লোম, তাঁদের যৌনক্ষমতা বেশি? কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই মনে করেন, যে সব পুরুষের বুকে বা গায়ে লোম বেশি, তাঁদের যৌনক্ষমতা বেশি। পুরুষের গায়ের লোমের সঙ্গে টেস্টোস্টেরন হরমোনের সম্পর্ক আছে। এমনটাইও অনেকে ভাবেন। এক একজনের শরীরে লোমের পরিমাণ এক এক রকম হয়। কারও শরীরে লোমের পরিমাণ বেশি। আবার কারও শরীরে লোমের পরিমাণ কম হয়। সাধারণ ভাবে দেখা যায়, অনেক পুরুষের শরীরে লোমের পরিমাণ অন্যদের তুলনায় একটু বেশি। অনেকেরই ধারণা, পুরুষের বুকের বা শরীরের লোমের সঙ্গে পুরুষের বিশেষ হরমোন টেস্টোস্টেরন ক্ষরণের সম্পর্ক রয়েছে। এই টেস্টোস্টেরনই আসলে যৌন হরমোন। এর ক্ষরণ যত বাড়ে, পুরুষদের গায়ে লোমের পরিমাণ তত বাড়ে। এমনটাই মনে করেন অনেকে। ফলে বেশি লোম দেখে অনেকে মনে করেন, ওই পুরুষ যৌনতার দিক থেকে বিশেষ পারদর্শী। কারণ বিজ্ঞান বলে, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়লে যৌনক্ষমতাও অনেকটা বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু বিষয়টি কি সত্যিই তাই? চিকিৎসকরা মতামত কিন্তু একটু আলাদা। তাঁদের কথায়, বেশিরভাগ মানুষের শরীরেরই লোমের সংখ্যা একই। লোমের মোট সংখ্যার মধ্যে তেমন বিশেষ ফারাক নেই। এমনকি নারীর ও পুরুষদের শরীরেও লোমের সংখ্যা প্রায়ই এক। তাহলে বেশি লোম দেখা যায় কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের লোম একটু বড় ও মোটা হয়ে যায়, তাদের বুকে বেশি লোম রয়েছে বলে মনে হয়‌। কারণ সেগুলি পরিষ্কার দেখা যায়। বয়ঃসন্ধি পর্যায়ের পর থেকে পুরুষের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয়। এর ফলে বুকের অংশে লোম বড় ও মোটা হতে শুরু করে। তাই সেগুলি আরও ঘন ও কালো দেখায়।

চিকিৎসকদের কথায়, বিষয়টি মোটেই অত সহজ নয়। বরং বলা ভালো, শরীরে লোমের পরিমাণ বা মোটা লোমের সংখ্যার সঙ্গে যৌনশক্তির কোনও সম্পর্ক নেই। এমনই বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাই কী পরিমাণ লোম রয়েছে বুকে তাই দেখে কিন্তু একজন পুরুষের যৌনক্ষমতা বিচার করা যাবে না। বুকে বেশি লোম থাকলেও সেই পুরুষ বেশি যৌনতায় সক্ষম, এমন কথা ভাবাও তাই ভুল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *