বাজারের খরচ কমানোর নয়টি খুবই সাধারণ কৌশল, যা হয়তো আপনার আগে জানা ছিল না

আজকে যে দামে পণ্য কেনা হচ্ছে, দিন গড়াতেই বেড়ে যাচ্ছে তার দাম। ফলে টানাটানিতে পরে যাচ্ছে পুরো মাসের বাজারের বাজেটে। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া নতুন আরেকটি মাসে প্রয়োজন হবে ঘরের নিত্যদিনের নানান প্রয়োজনীয় কেনাকাটা। তার আগেই জেনে নিন বাজারের খরচ কমানোর নয়টি খুবই সাধারণ কৌশল, যা পুরো বাজেটের উপরে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে অনেকখানি।

পুরো সপ্তাহের বাজার একসাথে
অনেকেই দৈনিক বাজার করেন অথবা দু’দিন পরপর বাজার করেন। এতেও কিন্তু খরচটা বেড়ে যায়। তাই বাজেট ও পরিমাণ নির্ধারণ করে পুরো সপ্তাহের বাজার একদিনে সেরে ফেলতে হবে। পচনশীল খাদ্য উপাদানগুলো বাজারের পরেই কেটে-ধুয়ে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।

তালিকা তৈরি করুন
কোন জিনিসগুলো পুরো সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। চেষ্টা করবেন লিস্ট যথাসম্ভব প্রয়োজনের মাঝে রাখার। বাজার করার সময় আমরা প্রয়োজনের চাইতে পছন্দসই জিনিস বেশি কিনে ফেলি। খরচ তাতে বেড়ে যায় অনেকখানি।

দূরে থাকুন সুপার শপ থেকে
সুপার শপ থেকে একবারে প্রয়োজনীয় সকল জিনিস কিনে ফেলা সম্ভব হলেও, এখান থেকে বাজার করার ফলে খরচটাও বেশি হয় অজান্তে। বাজারে চেয়ে দাম কম বলা হলেও, বেশ কিছু জিনিসে দাম রাখা হয় বাড়তি। সাথে ভ্যাটের জন্য গুণতে হয় বাড়তি টাকা। ফলে পুরো খরচের হিসাব বেড়ে যায় অনেকটা।

মাছ-মাংসের হিসেব করুন
বাসায় সদস্য সংখ্যা কত ও একবারে কাঁচাবাজার কতদিনের জন্য করা হবে সেটা হিসেব করে তবেই মাছ ও মাংসের বাজার করুন। বাড়তি মাছ-মাংস ডিপ ফ্রিজে বহুদিন রাখা হলে আঁশটে গন্ধ চলে আসে, যা খাওয়া যায় না। এতে টাকা নয় হয়। তাই প্রয়োজন মাফিক কাঁচাবাজার করুন।

অপরিচিত মসলা কেনা থেকে বিরত থাকুন
রান্নায় ভিন্ন স্বাদ ও গন্ধ আনতে বিভিন্ন প্রকারের মসলা ব্যবহারের ঝোঁক থাকে অনেকের। ভিন্ন ও তুলনামূলক প্রচলিত মসলার দামও হয় সাধারণত কিছুটা বেশি। বাজার করার সময় এ ধরনের মসলা কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কেটে রাখা ফল কেনা থেকে বিরত থাকুন
বড় আকৃতির ফল কেনার সময় অনেকেই ফল কেটে ফলের ভেতরের অংশ দেখে কিনে থাকেন। এই কাজটি করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে ফল দ্রুত সময়ের মাঝে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং বাহুল্য খরচ হয়।

মৌসুমি ফল ও সবজি কিনুন
প্রতি মৌসুমের সবজি ও ফলের ফলন হয় প্রচুর পরিমাণে। ফলে নির্দিষ্ট মৌসুমের ফল ও সবজির দামটাও হয় বেশ কম। তাই চেষ্টা করুন মৌসুমি ফল ও সবজি কেনার। যেমন গরমে বাঁধাকপি অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও তার মূল্য রাখা হয় বেশ চড়া। তাই শীতকালেই ফ্রেশ বাঁধাকপি কেনা উচিত সুলভ মূল্যে।

ঘরে তৈরি খাবারে প্রাধান্য দিন
প্রায়শ বাইরে থেকে খাবার কেনা হয় কিংবা বাইরে খাওয়া হয়? এই অভ্যাসটি কমিয়ে ফেলুন যথাসম্ভব। ভাত-ভর্তা কিংবা নান, চাওমিন, পুডিং যেটাই কেনা হোক না কেন, দোকানের সব খাবারের দামই রাখা হয় অনেক বেশি। যা পুরো বাজেটের উপরেই প্রভাব ফেলে দেয়। রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার হার কমিয়ে আনলেও পছন্দের খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। আপনার পছন্দের প্রতিটি খাবারই ঘরে তৈরি করা সম্ভব। তাও আবার খুব অল্প কিছু উপাদানে সহজ নিয়মেই। রেসিপি দেখে নিয়ম মেনে সে খাবারগুলো ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন।

সবসময় ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা জরুরি নয়
ধরুন দুইটি ভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিশওয়াশারের মধ্যে একটি বেশ সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ও অন্যটি তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ডের। পরিচিত ব্র্যান্ডের চেয়ে নতুন ব্র্যান্ডের ডিশওয়াশারের দাম বেশ কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন ধরনের জিনিসের ক্ষেত্রে সকল ব্র্যান্ডের পণ্যই একই রকম কাজ করে। ফলে সাবান, গুঁড়া, পাওডার, ডিশওয়াশারের মতো জিনিসগুলো ব্র্যান্ডের জিনিস না কিনলেও হবে এবং খরচ কমানো সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *