রাজধানীতে ধুন্ধুমার! সিজেপি ও বিরোধীদের আন্দোলন সামলাতে সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অমিত শাহ!

সিজেপি (CJP) এবং দেশের বিভিন্ন বিরোধী দলের লাগাতার নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন ও উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজধানী দিল্লির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে আজ শনিবার সরাসরি দিল্লি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চলা একের পর এক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ যেভাবে মোড় নিয়েছে, তার সামগ্রিক মূল্যায়ন করতে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আজ দুপুর তিনটে নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দিল্লি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রবেশ করবেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লির রাজপথ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যে যে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তার একটি বিশদ তথ্যচিত্র তুলে ধরবেন দিল্লি পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র আধিকারিকরা। কোন পরিস্থিতিতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল এবং সামগ্রিক সুরক্ষা বলয় কীভাবে বজায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্রিফ করা হবে।
উল্লেখ্য, সিজেপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ দমনে রাজধানীকে কার্যত দুর্গে পরিণত করার গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ। প্রকাশ্য রাজপথে বিক্ষোভ ঠেকাতে বেআইনিভাবে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি পুলিশ কমিশনারসহ শীর্ষ আধিকারিকদের সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আজকের এই বৈঠক অত্যন্ত কড়া বার্তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের আরও খবর, আজকের এই উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তার কঠোর পর্যালোচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজধানীতে চলা ওই তীব্র আন্দোলনের সময় ঠিক কী কী ঘটনা ঘটেছিল, তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে তলব করেছেন। আগামী দিনে দীপাবলির উৎসবের পর্ব কাটতেই বিরোধীরা ফের পুরোদমে রাজপথে নেমে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েও আজকের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে।
এদিকে, সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট ৫৭টি সংবেদনশীল মামলা দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। মূলত আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া গুরুতর অপরাধ, কুখ্যাত দাগী আসামিদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর হামলা ও হেনস্থার মতো গুরুতর ঘটনার তদন্ত করবে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এর মধ্যে অন্যতম হাই-প্রফাইল মামলা হিসেবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআর রয়েছে।
পাশাপাশি, অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং নেহা বোরা-সহ সিজেপি এবং আইসা (AISA)-র একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভারও তুলে দেওয়া হয়েছে দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চের পোড়খাওয়া তদন্তকারীদের হাতে। এর মধ্যে সরাসরি পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের হেনস্থা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অন্তত ১০টি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, আজকের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার মূল এজেন্ডায় রাজধানীতে সক্রিয় ড্রাগ পেডলারদের বিশাল নেটওয়ার্ক, স্থানীয় গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাগুলোর ওপর লাগাম টানতে এবং সংবেদনশীল বিষয়ে দিল্লি পুলিশের সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিশেষ বৈঠক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।