চাকরির অপেক্ষা আর নয়! অল্প জায়গায় মাশরুম চাষ করে স্বনির্ভরতার অনন্য নজির গড়ে তুললেন ময়নাগুড়ির এক যুবক।

প্রচলিত ধারার চাকরির আশা ছেড়ে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ঘর বা সামান্য অব্যবহৃত জায়গাকেই উপার্জনের প্রধান মাধ্যম করে তুললেন ময়নাগুড়ির ঝাঝাঙ্গী গ্রামের এক যুবক। কলেজ পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেও যখন সাফল্য মেলেনি, তখন দমে না গিয়ে অভিনব উপায়ে মাশরুম চাষ শুরু করেন অজিত বৈদ্য। তাঁর এই একাগ্রতা ও উদ্যোগ আজ শুধু তাঁর নিজের জীবনই বদলায়নি, বরং গোটা গ্রামের বহু বেকার যুবক ও মহিলাকে স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছে।
শুরুতে ছোট পরিসরে এই চাষ শুরু হলেও ফলন ভালো হওয়ায় দ্রুত বাড়ে ব্যবসার পরিধি। অজিতের দেখাদেখি বর্তমানে ঝাঝাঙ্গী গ্রামের প্রায় কুড়িটি পরিবার এই লাভজনক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই চাষের অন্যতম সুবিধা হলো কোনো উর্বর কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না; বাড়ির পাশের সাধারণ ঘর বা অব্যবহৃত জায়গাতেই মাশরুম ফলানো সম্ভব। বর্তমানে এই গ্রামের উৎপাদিত মাশরুম স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং হয়ে প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম ও ভুটানেও সরবরাহ করা হচ্ছে। এই চাষের মাধ্যমে বহু পরিবারের মাসিক আয় এখন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, আগ্রহী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও বীজ দিয়ে এবং তাঁদের উৎপাদিত মাশরুম নিজে কিনে নেওয়ার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন অজিত।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
স্বনির্ভরতার নতুন দিশা: ময়নাগুড়ির ঝাঝাঙ্গী গ্রামের যুবক অজিত বৈদ্য চাকরির আশা না করে পরিত্যক্ত ঘরে মাশরুম চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
গ্রামবাসীর অংশগ্রহণ: অজিতের অনুপ্রেরণায় গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবার এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লাভবান হচ্ছে, যাদের অনেকেরই মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
বাজারের পরিধি: স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এই মাশরুম এখন দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম ও ভুটানের মতো অঞ্চলেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে সহায়তা: আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, বীজ প্রদান এবং তাঁদের কাছ থেকে মাশরুম কিনে নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন অজিত।