পাহাড়ে পা রাখতে পারলেন না শাহ! ‘ব্যাগ গুছিয়ে’ তৈরি হর্ষবর্ধন-রাজু বিস্তা, তবুও কেন ভেস্তে গেল মেগা শো?

বাঙালির আবেগ আর পাহাড়ের রাজনীতি— দুইয়ের মেলবন্ধনে বুধবার সরগরম হওয়ার কথা ছিল দার্জিলিং। কিন্তু প্রকৃতির বাধায় শেষ পর্যন্ত লেবং স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেই পারলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হেলিকপ্টার ল্যান্ড করতে না পারায় মালদা থেকেই ভার্চুয়ালি পাহাড়ের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিলেন তিনি। তবে সভায় সশরীরে থাকতে না পারলেও, ‘গোর্খা’ আবেগকে উসকে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন শাহ।
সেই একই ট্র্যাজেডি: এর আগেও বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় লেবংয়ে সভা করার কথা ছিল শাহের। কাকতালীয়ভাবে সেই দু’বারও তিনি পৌঁছাতে পারেননি। বুধবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় হতাশ পাহাড়ের বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও পাহাড়ের তিন বিজেপি প্রার্থী। তবে শাহের জনসভা বাতিল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা।
ভার্চুয়াল হুঙ্কার ও মাস্টারস্ট্রোক: হেলিকপ্টার না উড়লেও মালদা থেকে ভিডিয়ো বার্তায় শাহ গোর্খাদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন:
-
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খা আন্দোলনের সময় দায়ের করা সমস্ত ‘মিথ্যা মামলা’ দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।
-
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যর্থতা: শাহের দাবি, তিনি তিনবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিরা দিল্লি যাননি। এমনকি প্রতিনিধিরা কলকাতায় কথা বলতে এলেও মুখ্যমন্ত্রী নাকি সময় দেননি।
-
ডেডলাইন ৪ মে: শাহের সাফ কথা, ৪ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেই সংবিধানের অধীনে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
পরবর্তী লক্ষ্য সুকনা: পাহাড়ের ভোটারদের আশ্বস্ত করে শাহ জানিয়েছেন, ২১ এপ্রিল তিনি কার্শিয়াংয়ের সুকনায় ফের সভা করবেন। সেখানে তিনি পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য এক বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে গোর্খাদের এই আবেগ ও পাহাড়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে বিজেপি যে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এদিনের ভার্চুয়াল ভাষণেই তা পরিষ্কার।