‘নাক গলাবেন না’, ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি বেজিংয়ের! হরমুজ় অবরোধ নিয়ে ঘনীভূত মহাযুদ্ধের মেঘ

ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবার এক ভয়ঙ্কর মোড় নিল। হরমুজ় প্রণালীতে আমেরিকার নৌ অবরোধ কার্যকর হতেই রণংদেহি মেজাজে ময়দানে নামল ড্রাগন। বেজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান ও চিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাঝখানে আমেরিকার ‘নাক গলানো’ তারা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। চিনের এই সরাসরি হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে এক অজানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে—তবে কি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়তে চলেছে?

চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন এক কড়া বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। আমরা আশা করি অন্যরা আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।” চিনের জন্য হরমুজ় প্রণালী কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। চিনের প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ হয় এই জলপথ দিয়েই। ফলে আমেরিকার এই অবরোধ সরাসরি চিনের অর্থনীতির ওপর আঘাত হানছে।

ট্রাম্প বনাম জিনপিং: সংঘাতের মূলে কী?
কয়েক দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে বেজিংকে চরম মূল্য চোকাতে হবে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, চিন একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ইরানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবর সামনে আসতেই গর্জে ওঠেন ট্রাম্প। যদিও চিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ় প্রণালীতে ১৫টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের সাফ কথা, “ইরানি জাহাজ দেখলেই উড়িয়ে দেওয়া হবে।” পাল্টা চিনও জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী চিনের জন্য খোলা রয়েছে এবং সেখানে কোনো অবরোধ তারা মানবে না। দুই মহাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে কার্যত কাঁপছে বিশ্ববাজার।