মধ্যপ্রাচ্যে এবার ‘ত্রাতা’ পুতিন? ব্যর্থ মার্কিন-ইরান আলোচনার মাঝে শান্তির প্রস্তাব রাশিয়ার!

একদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে বড় উদ্যোগ! এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘকালীন সংঘাত মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।

কেন ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদ আলোচনা?

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে চলা হাইভোল্টেজ বৈঠক কোনো রফাসূত্র ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি— ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির পথ ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ এখন চরমে।

“আমরা ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তাব দিলেও আমেরিকা ইরানের আস্থা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।” — মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ (ইরানের সংসদীয় স্পিকার)

পুতিনের এন্ট্রি: নেপথ্যে কি অন্য কৌশল?

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিন এই সংঘাতের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে চান। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই এই শান্তি প্রস্তাব দিয়ে পুতিন আসলে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছেন।

রাশিয়ার অভিযোগ— আমেরিকা অমানবিকভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং তেহরানের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কি টিকবে?

১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি আলোচনা। যদিও গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে, তবে আলোচনার ব্যর্থতা সেই শান্তিচুক্তি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন। এবারও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন— পারমাণবিক বিরোধের সমাধান যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।