কমিশনের খামে পদ্মফুল! মহুয়ার পোস্ট করা সেই ছবি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

ভোটের আগে ফের অগ্নিগর্ভ বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্যু— ছয় বছর পুরোনো একটি সরকারি নথি, যেখানে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির নাম ও পদ্মফুল চিহ্নের ‘সিল’ বা স্ট্যাম্প ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে এই নথি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। তিনি একটি পুরোনো নথি জনসমক্ষে আনেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ব্যবহৃত সিলমোহরে স্পষ্ট লেখা রয়েছে বিজেপির নাম এবং খোদাই করা আছে পদ্মফুল। এই ছবি ভাইরাল হতেই আসরে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যরাতে ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “অবশেষে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরোল! আমরা যা বলতাম, আজ তা হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গেল।”

কমিশনের নথিতে বিজেপির ছাপ? তৃণমূলের দাবি, নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও নির্বাচন কমিশন যে আদতে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে, এই স্ট্যাম্প তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। যদিও এই নথিটি ছয় বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা যুক্তি— “ছয় বছর আগে হোক বা এখন, কমিশনের অন্দরে বিজেপির অনুপ্রবেশ যে কতটা গভীরে, তা এই ছবি থেকেই পরিষ্কার।”

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন শুধু স্ট্যাম্প বিতর্কেই থেমে থাকেননি। ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, “ওদের শেষ করবে SIR (Statistical Intelligence Report)।” এই ‘SIR’ নিয়ে মমতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। তিনি কি কোনও বিশেষ রিপোর্ট বা আইনি প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন? তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল নেত্রীর সাফ কথা, “জনগণ সব দেখছে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিচার হবেই।” বিরোধীরা অবশ্য এই অভিযোগকে স্রেফ ‘ভোটের গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে এই ‘স্ট্যাম্প বিতর্ক’ যে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Samrat Das
  • Samrat Das