জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধের কার্ড ছাপালেন বাবা! ভিনজাতে বিয়ের চরম মাশুল, শোরগোল রাজস্থানে

সমাজে আজও প্রেমের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় জাতপাতের দেওয়াল। নিজের পছন্দমতো অন্য সম্প্রদায়ের যুবককে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ জ্যান্ত মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন এক বাবা। শুধু তাই নয়, রীতিমতো আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করতে ছাপানো হয়েছে শ্রাদ্ধের কার্ড। রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। পিতৃস্নেহের বদলে সেখানে এখন জায়গা করে নিয়েছে চরম ঘৃণা আর সামাজিক সম্মান রক্ষার লড়াই।

প্রেমের শুরু জয়পুরে পুলিশ সূত্রে খবর, উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক বছর আগে মেয়েকে জয়পুরে পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা। সেখানেই আলাপ হয় অন্য সম্প্রদায়ের এক তরুণের সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম গভীর হতেই গত বছর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরিবারের অমতে হওয়া এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি তরুণীর রক্ষণশীল পরিবার। গত আট মাস ধরে এই নিয়ে টানাপড়েন চলার পর অবশেষে চরম পথ বেছে নিলেন বাবা।

থানায় নাটকীয় মোড় মেয়ের হদিস না পেয়ে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। পুলিশ তরুণীর খোঁজ পাওয়ার পর তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে থানায় তলব করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি ও অনেক বুঝিয়েও মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে পারেননি। তরুণী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গেই সংসার করতে চান। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পর্ক ত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।

শ্রাদ্ধের কার্ডে মেয়ের ছবি সম্প্রতি ওই তরুণী একবার বাপের বাড়ি আসার চেষ্টা করলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁর নামে শ্রাদ্ধের কার্ড ছাপানো হয়। কার্ডের ওপর তরুণীর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে তিনি ‘প্রয়াত’। আগামী নির্দিষ্ট দিনে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় ভোজের আয়োজনও করা হয়েছে। এদিকে, নিজেদের প্রাণহানির আশঙ্কায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন নবদম্পতি। রাজস্থানের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সেই স্মৃতি, যেখানে একইভাবে ভিনধর্মে বিয়ে করায় কাকা তাঁর ভাইঝির শ্রাদ্ধ করেছিলেন। সমাজ এগোলেও মানসিকতা কি আজও তিমিরে? প্রশ্ন তুলছে এই ভাইরাল কার্ড।