“পড়ুয়াদের ঠাসাঠাসি করে ক্লাস!”-ক্লাসরুমের অভাবে বন্ধ হওয়ার মুখে বাংলার এই স্কুল

যেখানে রাজ্যের বহু স্কুল পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হওয়ার মুখে, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা গেল হাওড়ার শ্যামপুরের গুজারপুর গার্লস প্রাইমারি স্কুলে। এখানে পড়ুয়া কম নয়, কিন্তু ক্লাসরুমের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। একই ঘরের মধ্যে গাদাগাদি করে বসে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাস করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের মনোযোগে বারবার ব্যাঘাত ঘটছে।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন ছাত্রী এবং ৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষকের অভাব না থাকলেও, সমস্যা তৈরি হয়েছে শ্রেণিকক্ষের অভাবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মাত্র তিনটি ক্লাসরুম আছে, যেখানে প্রয়োজন ছয়টি। বাধ্য হয়ে একটি ঘরে একসঙ্গে দুটি শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। যেমন, প্রথম শ্রেণির ছাত্রীরা পিঠাপিঠি হয়ে বসে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীদের সঙ্গে, অথবা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীরা একই সঙ্গে ক্লাস করে। এর ফলে শিক্ষকের কথা যেমন শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো শুনতে পায় না, তেমনই শিক্ষকরাও পড়াতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। অনেক অভিভাবক এই কারণে তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

একজন অভিভাবক, মঞ্জুরী মণ্ডল বলেন, “একটি ক্লাসরুমের মধ্যে দুটি শ্রেণির ছাত্রীরা বসছে। যখন দুই শিক্ষক একসঙ্গে পড়ান, তখন কারও কথা শোনা যায় না। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।” স্কুলের এক শিক্ষিকা গরিত্রী বেরা জানান, “আমি যখন এক ক্লাসে পড়াই, তখন অন্য শিক্ষক সেই ঘরেই আলাদা শ্রেণির ক্লাস নেন। ফলে দুই শিক্ষকের কথা পড়ুয়াদের কানে ঢোকে, যা খুবই সমস্যার।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত কুমার মান্না জানান, তারা এই সমস্যার কথা স্কুল পরিদর্শক এবং ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শ্যামপুরের বিধায়ক কালীপদ মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা আতিয়ার রহমান কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার পুজো কমিটিগুলিকে টাকা দিতে পারে, কিন্তু স্কুল বিল্ডিং বানানোর টাকা নেই। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের।”