লিভ-ইন পার্টনার যৌন ব্যবসায় নামতে নারাজ, রেগে গিয়ে কুপিয়ে খুন করল যুবক

অন্ধ্রপ্রদেশের আম্বেদকর কোনাসীমা জেলার রাজোলু মণ্ডলের বি সাভারাম গ্রামের সিদ্ধার্থ নগরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে তার লিভ-ইন পার্টনার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে, কারণ তিনি দেহব্যবসায় জড়াতে অস্বীকার করেছিলেন।
মৃতা যুবতীর নাম ওলেতি পুষ্পা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পুষ্পা শেখ শাম্মা নামে এক যুবকের সঙ্গে রাজোলুর এই গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শাম্মা প্রায়শই পুষ্পাকে অন্য পুরুষদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ করতেন এবং তাকে জোর করে যৌনপেশায় জড়ানোর জন্য চাপ দিতেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই তীব্র অশান্তি লেগে থাকত।
বুধবার রাত প্রায় ১০টার সময় পুষ্পা এবং শাম্মার মধ্যে আবারও প্রবল ঝগড়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই সময় শাম্মা পুনরায় পুষ্পাকে দেহব্যবসায় নামার প্রস্তাব দেয়। পুষ্পা দৃঢ়ভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, অভিযুক্ত শাম্মা ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ছুরি নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুষ্পার বুকে ও পায়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পুষ্পার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনা যখন ঘটছিল, তখন পুষ্পার মা গঙ্গা এবং ভাই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু আক্রমণকারী শাম্মা তাদের উপরও ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। দুজনেই আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজোলু সার্কেল ইন্সপেক্টর নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শেখ শাম্মার বিরুদ্ধে খুন ও হত্যার চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য দুটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় নিবিড় তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীরা দোষীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পরই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।