রাতে আরামে ঘুমাতে চাইলে পরিহার করুন এসব খাবার, জেনেনিন একনজরে

সুস্থ শরীরের জন্য ঘুম অপরিহার্য। অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরি। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কম ঘুম মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

ঘুম ভালো না হলে অবসন্ন ভাব, উদ্বেগ, মনোযোগের অভাব, বিষণ্ণতা ইত্যাদি সমস্যা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে ওজনে সমস্যা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘুম না হওয়ার জন্য অনেকটা দায়ী নিত্যদিনের খাবার। আপনি যে খাবার খান, সেগুলোই রাতের ঘুম নষ্ট করে দেয়। যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন রাতের খাবারের ক্ষেত্রে তাদের বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এবার জেনে যাক ঘুম নষ্ট করে দেওয়া খাবারগুলো সম্পর্কে-

মশলাদার খাবার
মশলাদার খাবার হজম হতে সময় বেশি নিয়ে থাকে এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই যারা ঘুমের সমস্যায় রয়েছে তারা রাতে যে কোন মশলাদার খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

গ্রিন টি
যদিও এই চা-এর অনেক উপকার কিন্তু ঘুমের খুব ক্ষতি করে। গ্রিন টিতে রয়েছে রাসায়নিক উপাদান। যা ঘুম কম হওয়ার কারণ। তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে রাতে কখনওই চা খাবেন না।

কফি
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে রাতে খাবারের পর কফি পান করা। ভালো ঘুমের জন্য এই অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। কারণ কফির অ্যাসিডিক উপাদান আপনার মস্তিষ্ককে সজাগ রেখে ঘুম তাড়িয়ে দিয়ে থাকে। তাই দিনের বেলা কফি পান করুন, রাতে নয়।

উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ঘুমের ক্ষতি করে। তাই রাতের খাবারে বেশি আঁশ রাখুন এবং চর্বি জাতীয় খাবার ছাড়ুন। আঁশযুক্ত খাবারের জন্য সবজি খান।

কোমল পানীয়
রাতে কোমল পানীয় পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। কোমল পানীয় দেহের রক্ত চলাচলে বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি এর অতিরিক্ত চিনি এবং গ্যাসীয় কম্পাউন্ড ঘুমের উদ্রেক করা হরমোনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে। তাই রাতে এই কোমল পানবীয় এড়িয়ে চলুন।

আইসক্রিম
আইসক্রিমে হাই ফ্যাট আর প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই আইসক্রিম সহজে হজম হতে চায় না, যার কারণে ঘুম আসতে দেরি হয়। রাতে আইসক্রিম বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

চকলেট
আইসক্রিমের মতোই চকলেট, ক্যান্ডি ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। ডার্ক চকলেটে ক্যাফেইন থাকে, কাজেই ঘুমের আগে এটা খেলে ঘুম আসতে দেরি হবে।

পাস্তা
পাস্তাতে উচ্চ মাত্রায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে যেটা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে ভালো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা অনিবার্য।

বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
বেশি পরিমাণে প্রোটিন খেলে ঠিক মতো ঘুম আসবে না। মাংস, ডাল, চর্বি জাতীয় খাবার হজম হতে বেশি সময় নিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রোটিন শরীরে প্রচুর এনার্জি তৈরি করে। এতে শরীর শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উত্তেজিত হয়। তাই রাতে এসব খাবার পরিমাণ মত খাবেন।

অবশ্যই একটি নিয়ম মানতে হবে, তাহলো ঘুমাতে যাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলতে হবে। কারণ ভাল ঘুমের জন্য এটির ভাল প্রভাব রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *