পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই, অমৃতসরের মন্দিরে গ্রেনেড হামলা, এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তের

অমৃতসরের একটি মন্দিরে গ্রেনেড হামলার মূল অভিযুক্ত গুরসিদক সিং পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে রাজাসানসি এলাকায় এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ গুরসিদককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে এই সুযোগে তাঁর সহযোগী অভিযুক্ত বিশাল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতক বিশালের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার গভীর রাতে অমৃতসরের কাছে ঠাকুরদ্বারা মন্দিরে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দুই বাইক আরোহী তরুণ মন্দির লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলে দুষ্কৃতীদের ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। গোপন সূত্রে খবর আসে যে, রাজাসানসি এলাকায় এই দুই অভিযুক্তকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এরপর সিআইএ এবং ছেহর্তা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করে তাদের ধরতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে অভিযুক্তদের বাইকে চড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের উপর গুলি চালাতে শুরু করে। এই গুলিতে হেড কনস্টেবল গুরপ্রীত সিং বাম হাতে আঘাত পান, আরেকটি গুলি ইন্সপেক্টর অমোলক সিংয়ের পাগড়িতে লেগে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্সপেক্টর বিনোদ কুমার আত্মরক্ষার জন্য পালটা গুলি চালান। এতে গুরসিদক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এই সুযোগে তাঁর সহযোগী বিশাল পালিয়ে যায়।
আহত গুরসিদক ও পুলিশ আধিকারিকদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গুরসিদকের জখম গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নতুন এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে।
তদন্তে পাক আইএসআই-এর সম্পৃক্ততার সন্দেহ
অমৃতসর পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হাত থাকতে পারে। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযুক্তদের খুঁজে বের করেছি। তদন্তে এখনও অনেক কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ এখন পলাতক অভিযুক্ত বিশালকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধী দলগুলি সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে। শিরোমণি আকালি দলের নেতা দলজিৎ সিং চিমা এটিকে আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি নেতা তরুণ চুঘও এই হামলার জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনা অমৃতসরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। তবে এই হামলার পেছনের পূর্ণ সত্য উদঘাটনে তদন্ত আরও গভীর করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।