মরিচ ছিদ্রকারী পোকা দমনের সহজ উপায়,জেনে নিয়ে আজই নিন প্রস্তুতি

মরিচ ছিদ্রকারী পোকার মথ নিশাচর এবং রাতের আলোতে আকৃষ্ট হয়। পোকার কীড়ার (বাচ্চা) আক্রমণে মরিচ ছিদ্রযুক্ত দেখায় ও বাজার মূল্য কমে যায়। তাই মরিচ ছিদ্রকারী পোকা দমনসহ বিভিন্ন পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের জানতে হবে।

মরিচ ছিদ্রকারী মা পোকাকে (মথ) সাধারণত রাত ছাড়া দেখা যায় না । কীড়াকে ফলের মধ্যে দেখা যায়। কীড়া লম্বায় প্রায় ২ ইঞ্চি। কীড়ার গায়ের রং কালচে ধূসর থেকে হালকা বাদামি এবং শরীরের উভয় পাশে লম্বালম্বি হালকা কাল ও বাদামি রংয়ের দাগ দেখা যায়।

কীড়া মরিচের বোটার কাছে ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খায়। একটি পোকা একাধিক ফলে আক্রমণ করতে পারে এবং ফলের ভেতর কীড়ার বিষ্ঠা ও পচন দেখা যায়। আক্রান্ত ফল অসময়ে পাকে।

জীবন চক্র: মথ পাতার নিচে ২০০-৩০০ ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনে ডিম ফোটে কীড়া বের হয়। ছোট কীড়া একত্রে থাকে তবে বড় হলে ক্ষেতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কীড়া ১৪-১৬ দিন পর পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি ২-৩ ইঞ্চি মাটির গভীরে থাকে। ১০-১৫ দিন পর পুত্তলি হতে পূর্ণাঙ্গ মথ বের হয়। জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ৩০-৩৫ দিন লাগে । এরা বছরে আটবার বংশ বিস্তার করে।

জমি থেকে ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে। প্রতি বিঘায় ১৫টি হারে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ মেরে ফেলতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে পরজীবী পোকা। ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ব্যবহার (প্রতি হেক্টরে ১ গ্রাম ডিম) করতে হবে। তবেই এই পোকার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *