ওপেনএআই-মাইক্রোসফট ঘনিষ্টতা গুগলের জন্য বিপদ সংকেত, জেনেনিন কেন?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতা ‘ওপেনএআই’র সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট।

জনপ্রিয় ইমেজ জেনারেশন টুল ‘ডালই’ ও চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা কোম্পানিটির সঙ্গে একাধিক বছরে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যস্থির করেছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।

বিবিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইলন মাস্ক ও বিনিয়োগকারী স্যাম অল্টম্যান প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিতে একশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে মাইক্রোসফট।

উইন্ডোজ ও এক্সবক্স নির্মাতা শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্ট নিজেদের ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করলেও বিভিন্ন কৌশলগত খাতে তারা এখনও কর্মী নিয়োগের কথা বলছে।

“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত উন্নয়নের মাধ্যমে কম্পিউটিংয়ে পরবর্তী ‘বড় ঢেউ’ তৈরি হচ্ছে।” –গত সপ্তাহে কর্মীদের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলা।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণায় ওপেনএআই বলেছে, তাদের বিশ্বাস ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ডিভাইস ও ক্লাউড সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে।

‘কোড রেড’

বিভিন্ন প্রশ্নের ‘বিশ্বাসযোগ্য মানব প্রতিক্রিয়া’ জানাতে পারে ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটি।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নকলে সহায়তা থেকে লেখায় ত্রুটি, এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা থাকলেও এর বিপরীতে সার্চ ইঞ্জিন’সহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য বিপ্লব ঘটানোর কথাও শোনা গেছে সফটওয়্যারটি সম্পর্কে।

গুগলের চেয়ে মাইক্রোসফট মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিন ‘বিং’ জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকলেও কেউ কেউ বলছেন, চ্যাটজিপিটি এই খাতের শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন গুগলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফটওয়্যারের উত্থানে গত মাসে জরুরী বৈঠক ডাকতে বাধ্য হন গুগল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন। প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেন গুগলের প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবসা ‘খেয়ে ফেলতে’ না পারে, সেই লক্ষ্যে জরুরী সতর্কবার্তাও জারি করা হয়, যা ‘কোড রেড’ নামে পরিচিত।

এর আগে সর্বজনীন ব্যবহারের জন্য কিছু সংখ্যক এআই সিস্টেম আত্মপ্রকাশ করা থেকে বিরত ছিল গুগল।

‘ইমাজেন’ নামে পরিচিত ইমেজ জেনারেশন ব্যবস্থা প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি সে সময় ‘নৈতিক চ্যালেঞ্জ’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে।

গবেষকরা বলেছেন, এই ব্যবস্থায় ঝুঁকি ছিল। কারণ এটি ওয়েব থেকে নেওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি, এর বিভিন্ন ‘ক্ষতিকারক স্টেরিওটাইপ ও প্রতিনিধিত্ব’ শেখার ঝুঁকিও রয়েছে।

নীল আকাশ

মাইক্রোসফট বলেছে, তারা বিভিন্ন ‘বিশ্বাসযোগ্য ও নিরাপদ’ এআই ব্যবস্থা ও পণ্য তৈরিতে অঙ্গিকারবদ্ধ।

কোম্পানিটি আরও যোগ করে, তারা নিজেদের সকল ‘গ্রাহক ও এন্টারপ্রাইস পণ্যে’ ওপেনএআই’র প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি কোম্পানিটি ‘ডাল-ই’ নামে পরিচিত সহজ টেক্সট নির্দেশাবলী থেকে ছবি তৈরির একটি টুলও বানিয়েছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কম্পিউটার কোড লেখার ব্যবস্থা ‘গিটহাব কোপাইলট’ও তৈরি করেছে কোম্পানিটি।

মাইক্রোসফট বলেছেন, তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাজিওর’ ওপেনএআই’র মাধ্যমেই পরিচালিত হতে থাকবে।

এর আগের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, ওপেনএআই’র পেছনে অতিরিক্ত এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে মাইক্রোসফট। তবে, কোম্পানির ঘোষণায় বিনিয়োগের আকার নিয়ে কোনো তথ্য নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *