‘মানবজাতির বড় অংশ ধ্বংস হতে পারে!’-মহাশক্তিশালী AI নিয়ে বিস্ফোরক দাবি গবেষকের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ কেবল প্রাত্যহিক প্রশ্ন বা ছবি তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে কোড লেখা, গবেষণা এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো জটিল ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। প্রযুক্তির এই অতি দ্রুত অগ্রগতি এবার নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে প্রযুক্তি গবেষকদের মনে। এআইয়ের লাগামছাড়া বিকাশ মানবজাতির অস্তিত্বকে আগামী এক দশকের মধ্যেই মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গার।

হাবিঙ্গারের বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, আগামী দশ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানুষের অস্তিত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। এমনকি মানবজাতির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দশ শতাংশের বেশি বলেও মনে করছেন তিনি। অবশ্য একে কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী না বলে গবেষকের নিজস্ব সম্ভাব্য মূল্যায়ন হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মূল উদ্বেগ হলো, এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ঠিক কত দ্রুত এবং কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি বা সমাধান এখনও মানুষের হাতে নেই।

সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’ অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় হাবিঙ্গার জানান, কোম্পানিগুলো এমন অতিমানবীয় এআই সিস্টেম তৈরি করছে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ ধরনের শক্তিশালী এআই যদি নিজে থেকে সাইবার হামলা পরিচালনা করতে শুরু করে বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তবে পরিস্থিতি মানুষের হাতের বাইরে চলে যেতে বাধ্য।

এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’। সহজ কথায়, এআইয়ের আচরণ মানুষের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা ও মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখাটাই এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্স বা অত্যন্ত শক্তিশালী এআই তৈরি হলে সেটিকে নিরাপদে রাখার কোনো নিখুঁত উপায় এখনও বিজ্ঞানীদের জানা নেই। প্রযুক্তির উন্নতির গতি যদি নিরাপত্তা গবেষণার গতির চেয়ে দ্রুত হয়, তবে ভবিষ্যতে তার ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা গবেষকদের।

শুধু আশঙ্কা নয়, আন্তর্জাতিক মহলে নড়েচড়ে বসার সময় এ ধরনের সতর্কবার্তা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং মেটার মতো প্রথমসারির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলির গবেষকেরাও বারবার শক্তিশালী মডেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে এআই এজেন্টদের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা বাড়ার ফলে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়েছে। এআই এজেন্ট এখন শুধু নির্দেশ মেনে উত্তর দেয় না, বরং নিজে থেকে একাধিক ধাপে কাজ করতে সক্ষম। অপরাধীদের হাতে এই প্রযুক্তি পড়লে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রযুক্তি সংস্থগুলির ওপর ভরসা না রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা ড্যারেন জোন্স এআইয়ের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন চুক্তি বা যৌথ নীতিমালার দাবি তুলেছেন। সরকারগুলি যদি এখন থেকেই এআইয়ের উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে এমন এক সময় আসবে যখন ঝুঁকি মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ আর মানুষের হাতে থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *