“ফালতু ভেবে ফোন ফেলে দেবেন না!”-বাতিল স্মার্টফোনই এখন লাগবে কাজে, বাজিমাত গবেষকদের

পুরোনো বা বাতিল স্মার্টফোন মানেই কি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া ই-বর্জ্য? একেবারেই নয়! এবার পুরোনো অকেজো স্মার্টফোন দিয়েই ছোট আকারের শক্তিধর ‘ডাটা সেন্টার’ ও ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরির এক বিস্ময়কর উদ্যোগ নিয়েছেন আমেরিকার ‘ইউনিভার্সিটি অব সান দিয়েগো’-র গবেষকরা। গুগলের যৌথ সহযোগিতায় বাতিল হওয়া গুগল পিক্সেল (Google Pixel) ফোনের মাদারবোর্ড ব্যবহার করে এই পরিবেশবান্ধব টেক-প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

গুগল রিসার্চের (Google Research) ব্লগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ফোনগুলোকে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হচ্ছে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে ‘ফোন ক্লাস্টার কম্পিউটিং সিস্টেম’?

গবেষকরা প্রথমে পুরোনো পিক্সেল ফোন থেকে ব্যাটারি, ডিসপ্লে, কাভার ও স্পিকারের মতো বাড়তি অংশগুলো সাবধানে খুলে নিচ্ছেন। এরপর কেবল কাজের ‘মাদারবোর্ড’গুলোকে একত্রে যুক্ত করে তৈরি করছেন এক-একটি ‘ফোন ক্লাস্টার কম্পিউটিং সিস্টেম’ (Phone Cluster Computing System)। যা হুবহু একটি মিনি ডেটা সেন্টারের মতো প্রসেসিংয়ের কাজ সামলাতে সক্ষম।

গুগলের রিপোর্ট বলছে, একটি স্মার্টফোনের মোট কার্বন ফুটপ্রিন্টের প্রায় ৫০ শতাংশই যুক্ত থাকে তার মাদারবোর্ডের উৎপাদনে। তাই বাতিল মাদারবোর্ড পুনর্ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে ই-বর্জ্যের চাপ কয়েক গুণ কমে যাবে।

১টি ছোট ক্লাস্টারেই চলবে গোটা স্কুলের কম্পিউটিং!

গবেষণায় উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব তথ্য। মাত্র ২০টি পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড জুড়ে তৈরি একটি ছোট ক্লাস্টার অনায়াসে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর ক্লাসরুম প্রজেক্ট বা শিক্ষা-সংক্রান্ত অ্যাপ চালাতে পারে।

গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে প্রায় ২০০০টি পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড একত্র করে একটি বিশাল মেগা-কম্পিউটিং ক্লাস্টার গঠন করা। এটি সফল হলে আধুনিক ও ব্যয়বহুল সার্ভার কেনা ছাড়াই প্রায় ১০০টি ক্লাসরুমের কম্পিউটিং চাহিদা একযোগে মেটানো যাবে। ফলে পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র খরচে আধুনিক প্রযুক্তির নাগাল পাবে।

আধুনিক সার্ভারকেও টেক্কা দিচ্ছে পুরোনো পিক্সেল প্রসেসর!

সমীক্ষায় দেখা গেছে, আধুনিক প্রসেসিং ক্ষমতার নিরিখে পুরোনো স্মার্টফোনগুলো বড় বড় ক্লাউড সার্ভারের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ‘গুগল পিক্সেল ফোল্ড’ (Pixel Fold)-এর প্রসেসিং ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে—নির্দিষ্ট কিছু সিঙ্গল-কোর টেস্টে এটি আধুনিক অনেক ভারী সার্ভারের চেয়েও দ্রুত পারফর্ম করেছে!

ই-বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ রোধে বড় আশার আলো

সাধারণত ব্যবহারকারীরা প্রতি ৩ থেকে ৪ বছর অন্তর স্মার্টফোন বদলে ফেলেন। ফেলে দেওয়া এই লাখ লাখ ফোনে থাকা তামা, রূপো ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ নষ্ট হয়। পাশাপাশি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি মাটির সঙ্গে মিশলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

সান দিয়েগোর গবেষকদের তৈরি এই মডেল যদি বিশ্বজুড়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা বাঁচবে, অন্যদিকে খনিজ নিষ্কাশনের প্রয়োজন কমে বাঁচবে পৃথিবীও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *