EMI-কি আপনার পকেট ফাঁকা করছে? বেতন অনুযায়ী আপনার জন্য কত দামের ফোন সেরা?

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলা দায়। ব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু মুশকিলটা বাধে তখনই, যখন পকেটের জোর না থাকা সত্ত্বেও আমরা দামী ফোনের নেশায় বুঁদ হই। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করে ইএমআই-তে ১ লক্ষ টাকার ফোন কেনা আদতে নিজের সঞ্চয়কে ধ্বংস করার নামান্তর। আপনার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক কত দামের ফোন কেনা উচিত, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আর্থিক সঞ্চয়ের ম্যাজিক ফর্মুলা: ‘২-৬-১০’ রুল
আর্থিক উপদেষ্টারা স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়মের কথা বলেন। একে বলা হয় ‘২-৬-১০’ নিয়ম।
-
২ (মাসিক আয়ের অর্ধেক): আপনার ফোনের দাম আদর্শগতভাবে মাসিক বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।
-
৬ (ইএমআই মেয়াদ): যদি কিস্তিতে ফোন কেনেন, তবে তার মেয়াদ যেন ৬ মাসের বেশি না হয়।
-
১০ (আয়ের ১০ শতাংশ): মাসিক ইএমআই-এর পরিমাণ যেন আপনার মোট আয়ের ১০ শতাংশের গণ্ডি না ছাড়ায়।
এছাড়াও জনপ্রিয় ‘৫০-৩০-২০’ নিয়মটি মাথায় রাখা জরুরি। যেখানে ৫০% বেতন প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০% ব্যক্তিগত শখ এবং ২০% অন্তত সঞ্চয় বা বিনিয়োগে রাখা বাধ্যতামূলক।
আপনার বেতন অনুযায়ী সেরা বাজেট চার্ট:
| মাসিক বেতন | ফোন কেনার আদর্শ বাজেট | সর্বোচ্চ সীমা (বিশেষ ক্ষেত্রে) |
| ১৫,০০০ টাকা | ৭,০০০ — ১০,০০০ টাকা | ১২,০০০ টাকা |
| ২০,০০০ টাকা | ১০,০০০ — ১৫,০০০ টাকা | ১৮,০০০ টাকা |
| ৩০,০০০ টাকা | ১৫,০০০ — ২০,০০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা |
| ৪০,০০০ টাকা | ২০,০০০ — ২৫,০০০ টাকা | ৩৫,০০০ টাকা (গেমিং বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হলে) |
| ৫০,০০০ টাকা | ২৫,০০০ — ৩৫,০০০ টাকা | ৫০,০০০ টাকা (প্রয়োজনীয়তা বুঝে) |
বিশেষজ্ঞের রায়
যাঁদের পেশা ফটোগ্রাফি, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা হাই-এন্ড গেমিং, তাঁরা তাঁদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটে কিছুটা রদবদল করতে পারেন। তবে মাসের শেষে সেভিংস অ্যাকাউন্ট যাতে শূন্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রতিটি স্মার্ট ব্যবহারকারীর কর্তব্য। মনে রাখবেন, স্মার্টফোন আপনার কাজ সহজ করার জন্য, ঋণের বোঝা বাড়ানোর জন্য নয়।