বিশেষ: ধূমকেতু ও গ্রহাণুর মধ্যে পার্থক্য কোথায়? জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান ও মহাকাশ: নভেম্বরের আগেই অক্টোবর মাসে উত্তর গোলার্ধের আকাশে দেখা মিলতে পারে এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্যের। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সময় পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসবে একসঙ্গে দুই ধূমকেতু এবং কিছু গ্রহাণু।
সাধারণত বেশিরভাগ গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে ‘গ্রহাণু বলয়’-এ থাকলেও, মাঝে মধ্যে কিছু গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছিও চলে আসে। তবে কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছে দুই নবআবিষ্কৃত ধূমকেতু।
দুই ধূমকেতুর ‘ডাবল শো’
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দুটি ধূমকেতু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাবে:
১. প্রথম ধূমকেতু: ‘সি/২০২৫ আর২’ নামের ধূমকেতুটি ১৯ অক্টোবর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে যাবে।
২. দ্বিতীয় ধূমকেতু: ‘সি/২০২৫ এ৬’ নামের অন্য ধূমকেতুটি ২১ অক্টোবর পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর নিকটে আসার সময় এই ধূমকেতুগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। তবে দ্বিতীয় ধূমকেতু ‘সি/২০২৫ এ৬’ নিয়ে তাঁরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
ধূমকেতু আর গ্রহাণুর মূল পার্থক্য কোথায়?
মহাকাশে এই দুই বস্তুর প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন:
| বৈশিষ্ট্য | ধূমকেতু (Comet) | গ্রহাণু (Asteroid) |
| গঠন | বরফ, ধুলা ও গ্যাসের মিশ্রণে তৈরি অস্থিতিশীল বস্তু। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এদের মজার ছলে ‘বরফের নোংরা বল’ বলেন। | পাথরের তৈরি শক্ত বস্তু। |
| আচরণ | সূর্যের তাপে বরফ গলে গ্যাস ও ধুলা নির্গত হয়, ফলে লম্বা লেজ তৈরি হয়। এদের আচরণ আগাম বলা কঠিন। | পাথরের তৈরি হওয়ায় তুলনামূলক নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। এদের গতিপথ বিজ্ঞানীরা সহজেই নির্ধারণ করতে পারেন। |
দেখা যাবে কি খালি চোখে?
ধূমকেতুর লেজটিই এর সবচেয়ে চেনা বৈশিষ্ট্য, যা সূর্যের বিপরীত দিকে তৈরি হয়। পৃথিবীর কাছে এলে ধূমকেতু সাধারণত উজ্জ্বল দেখায়। তবে কখনও কখনও এর বরফের অংশ দ্রুত গলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়লে এটি ম্লান হয়ে যেতে পারে।
এই দুটি ধূমকেতুই নবআবিষ্কৃত। তাই সূর্যের কাছাকাছি এলে এদের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। এমনকি এমনও হতে পারে, ‘সি/২০২৫ আর২’ ধূমকেতুটি ১৯ অক্টোবর পৃথিবীর কাছে আসার আগেই ভেঙে পড়বে, সেক্ষেত্রে খালি চোখে দেখা নাও যেতে পারে।