YouTube-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের শীর্ষে, রেকর্ড ৯৮০ কোটি ডলার আয় করলো সংস্থা

জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আবারও তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ঘোষণা করেছে যে, চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ইউটিউবের বিজ্ঞাপন থেকে আয় ১৩ শতাংশ বেড়ে ৯.৮০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯৮০ কোটি ডলার) হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮.৭০ বিলিয়ন ডলার। এই আয় বিশ্লেষকদের পূর্ব অনুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে।

টিভি বিজ্ঞাপনের বাজারে ইউটিউবের দাপট:
গত কয়েক বছর ধরে, ইউটিউব টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ নিজেদের দখলে আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে টিভি প্ল্যাটফর্মে ইউটিউবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এর দর্শক সংখ্যার একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে। নিলসেনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টানা তিন মাস টিভি দেখার ক্ষেত্রে ইউটিউব সর্বোচ্চ স্থানে ছিল, যেখানে এটি মোট টিভি দেখার সময়ের ১২.৪ শতাংশ দখল করেছে। এটি প্রমাণ করে যে ঐতিহ্যবাহী টিভি দেখার অভ্যাস থেকে দর্শকরা এখন ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছেন।

প্রতিযোগীদের প্রতিক্রিয়া:
ইউটিউবের এই ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায়, এইচবিও ম্যাক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের বিজ্ঞাপন কৌশল আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে। আয় বাড়ানোর জন্য তারা বিজ্ঞাপনের স্থান নিয়েও নতুন করে পরিকল্পনা করছে।

এদিকে, নেটফ্লিক্সও ইউটিউবের একটি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির আয় সংক্রান্ত এক কনফারেন্সে নেটফ্লিক্স বিজ্ঞাপন থেকে দ্বিগুণ আয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যদিও নেটফ্লিক্স তাদের বিজ্ঞাপনের আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক কোম্পানি ম্যাডিসন অ্যান্ড ওয়ালের একজন বিশ্লেষক অনুমান করেছেন যে, নেটফ্লিক্স বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি ডলার) আয় করে।

অ্যালফাবেটের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি:
সামগ্রিকভাবে, অ্যালফাবেট দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেশ শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯৬.৪০ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়ের এই বৃদ্ধি অ্যালফাবেটের সামগ্রিক আয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি স্পষ্ট যে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজারে ইউটিউব তার আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে এবং অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে অবস্থান করছে।