চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে চান? জেনেনিন ১৫ টি বিশেষ দক্ষতা সম্পর্কে?

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক প্রসারের ফলে কর্মসংস্থান বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকতে এবং পেশাগত জীবনে উন্নতি লাভ করতে নতুন দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। সম্প্রতি পেশাদারদের নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন ‘স্কিলস অন দ্য রাইজ ২০২৫’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে আগামী দিনের চাকরির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ১৫টি দক্ষতার তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।
লিংকডইনের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা বর্তমানে যেসব দক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা শীর্ষে রয়েছে। এর পরেই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো হলো কোড পর্যালোচনা, জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, চাকরির জন্য প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও কৌশলগত চিন্তাভাবনা। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মজীবী মনে করেন যে তাদের বর্তমান দক্ষতা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ৬০ শতাংশ কর্মী নতুন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ নিতে আগ্রহী এবং ৩৯ শতাংশ নতুন দক্ষতা অর্জনের পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, ভারতের ৬৯ শতাংশ নিয়োগকর্তা মনে করেন যে কর্মীদের বর্তমান দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার মধ্যে একটি বড় পার্থক্য বিদ্যমান। সুতরাং, চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং এগিয়ে যেতে দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
লিংকডইনের ভারতীয় শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেশা বিশেষজ্ঞ নিরজিতা ব্যানার্জি এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের কাজের পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তার মতো সফট স্কিলস এখন আর কেবল অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; বরং এগুলো ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা এখন প্রায় সকল প্রকার চাকরির ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “‘স্কিলস অন দ্য রাইজ ২০২৫’ তালিকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে, যা তাদের নতুন দক্ষতা শেখা এবং একটি সফল পেশাজীবন গড়ে তোলার পথ দেখাতে সহায়ক হবে।”
গবেষণা আরও বলছে, কর্মক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও, কিছু বিশেষ সফট স্কিলস একজন পেশাদারকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলতে পারে। লিংকডইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনা এখন আর কেবল আর্ট, ডিজাইন বা বিপণন পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই দক্ষতাগুলোর চাহিদা ব্যবসায় উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।” যোগাযোগের দক্ষতার চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। পূর্বে এই দক্ষতা শুধুমাত্র বিক্রয় ও মানবসম্পদ বিভাগের পেশাদারদের জন্য অপরিহার্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, পরামর্শক সেবা এবং আর্থিক খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা এখন প্রায় সকল চাকরির ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে ৯৫ শতাংশ শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা মনে করেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত দক্ষতা এখন প্রথাগত অভিজ্ঞতার চেয়েও বেশি মূল্যবান। বিশেষ করে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো বিষয়গুলোতে কাজের অভিজ্ঞতা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে। এছাড়াও, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে গ্রাহক সংযোগ, বাজার বিশ্লেষণ এবং অংশীজন ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতাগুলোর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।