পুরনো আইফোন ফেলনা নয়! বিক্রি না করে ব্যবহার করুন ৯ দারুণ উপায়ে

আপনার পুরনো আইফোনটি কি ধুলো জমাচ্ছে ড্রয়ারে? ভাবছেন সেটি আর কোনো কাজেই লাগবে না? তাহলে ভুল ভাবছেন! দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত না হলেও, আপনার পুরনো আইফোনটি এখনও কার্যকর এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রিয় ফোনটিকে বিক্রি না করে বরং অন্য কাজে লাগিয়ে দিন। মেক ইউজ অব অবলম্বনে অব্যবহৃত আইফোন ব্যবহারের ৯টি চমৎকার উপায় জেনে নিন:

১. ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করুন:

আপনার ডেস্কটপ কম্পিউটারে যদি ওয়েবক্যাম না থাকে, তাহলে নতুন কেনার প্রয়োজন নেই। আপনার পুরনো আইফোনই সেই কাজটি করতে পারে। এমনকি বিল্ট-ইন ওয়েবক্যামযুক্ত ল্যাপটপের ক্যামেরার চেয়েও পুরনো আইফোনের ক্যামেরা অনেক ভালো মানের ছবি দিতে সক্ষম। ম্যাকের ক্ষেত্রে ওয়েবক্যাম হিসেবে আইফোন ব্যবহার করা খুবই সহজ। আপনার আইফোন যদি আইওএস ১৬ বা তার পরবর্তী সংস্করণে চলে, তাহলে ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য কন্টিনিউটি ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। এই ফিচার ম্যাককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যূনতম সেটআপের মাধ্যমে আইফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে শনাক্ত করে এবং ব্যবহার করতে দেয়। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা ক্যামোর মতো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের পুরনো আইফোনকে ওয়েবক্যামে পরিণত করতে পারেন।

২. ম্যাকের ওয়্যারলেস স্পিকার:

অব্যবহৃত আইফোনকে আপনার ম্যাকের বিল্ট-ইন স্পিকারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ম্যাকওএস সরাসরি আইফোনে অডিও স্ট্রিম করতে পারে না। তাই এই কাজটি করার জন্য এয়ারফয়েলের মতো একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের প্রয়োজন হবে। এয়ারফয়েল আপনাকে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথের মাধ্যমে আপনার ম্যাক থেকে আইফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করবে। নতুন হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ না করেই আপনি পেতে পারেন দুর্দান্ত ওয়্যারলেস স্পিকারের সুবিধা।

৩. সাশ্রয়ী ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) হেডসেট:

ভিআর হেডসেট ব্যবহার করা একটি মজাদার অভিজ্ঞতা। কিন্তু যদি আপনি এটি কিনতে না চান, তাহলে আপনার পুরনো আইফোনটি একটি কার্ডবোর্ড ভিআর হেডসেটের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। গুগল তাদের কার্ডবোর্ড ভিআর হেডসেট বন্ধ করে দিলেও, অনলাইনে সাশ্রয়ী মূল্যের অনেক বিকল্প এখনও পাওয়া যায়। একটি কার্ডবোর্ড কিনে ফেললে, শুধু আপনার আইফোনটি হেডসেটে রেখে ইউটিউব অ্যাপে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও দেখতে পারবেন অথবা রোলার কোস্টারের মতো গেম খেলে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। এই সেটআপ ভার্চুয়াল ট্যুর, ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা এবং বেসিক ভিআর গেমের জন্য বেশ ভালো।

৪. ডেডিকেটেড এআই চ্যাটবট ডিভাইস:

পুরনো আইফোনটিকে একটি ডেডিকেটেড এআই চ্যাটবট ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। পুরনো আইফোনটিতে আপনার পছন্দের এআই অ্যাপ ইনস্টল করুন, আইফোনটিকে ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করুন এবং এটি আপনার ডেস্ক বা নাইটস্ট্যান্ডে রাখুন। এটি একটি চমৎকার ডেস্ক সেটআপ তৈরি করবে এবং আপনি সহজেই ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন।

৫. গান ও অডিওবুক শোনার জন্য আইপড:

পুরনো আইফোনকে আইপ্যাডে রূপান্তর করে গান ও অডিওবুক শোনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এর জন্য কোনো জটিল সেটআপের প্রয়োজন নেই। অ্যাপ স্টোর থেকে কেবল মাই ক্ল্যাসিক অ্যাপটি কিনুন এবং আপনি এটি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। এটি আপনার পুরনো আইফোনকে একটি ডেডিকেটেড মিডিয়া প্লেয়ারে পরিণত করবে।

৬. স্মার্ট হোম কন্ট্রোলার:

পুরনো আইফোন পুনর্ব্যবহারের আরেকটি চমৎকার উপায় হলো এটিকে একটি ডেডিকেটেড স্মার্ট হোম কন্ট্রোলারে রূপান্তর করা। অ্যাপল হোম ও গুগল হোমের মতো অ্যাপের সাহায্যে আপনি আপনার সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসগুলো পরিচালনা করতে পারেন। যার মধ্যে রয়েছে লাইট, থার্মোস্ট্যাট, ক্যামেরা এবং আরও অনেক কিছু। একটি পুরনো আইফোনকে স্মার্ট হোম হাব হিসেবে ব্যবহার করে আপনি আপনার অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

৭. রান্নাঘরের সহযোগী:

রান্নাঘরের সহযোগী বা সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে আপনার পুরনো আইফোন। এতে ইনস্টল করে নিতে পারেন বিভিন্ন রেসিপি অর্গানাইজার অ্যাপ। রান্নার সময় পরিমাপ দেখার জন্য বা পছন্দের গান বাজিয়ে রান্নাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে এই অব্যবহৃত আইফোন।

৮. যেকোনো স্পিকারকে স্মার্ট স্পিকারে রূপান্তর:

আপনার পুরনো আইফোন ব্যবহার করে যেকোনো সাধারণ স্পিকারকে আধুনিক স্মার্ট স্পিকারে রূপান্তর করা যেতে পারে। হাই সিরি-র মতো অ্যাপ ডাউনলোড করে নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে আইফোনটি যুক্ত করলেই আপনার পুরনো স্পিকারটি ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধা সহ একটি আধুনিক স্পিকারে পরিণত হবে।

৯. ডাম্ব ফোন হিসেবে ব্যবহার:

আপনি চাইলে আপনার পুরনো আইফোনটিকে একটি ডাম্ব ফোন হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের ফোন সাধারণত শুধু কল, মেসেজ এবং কয়েকটি মৌলিক পরিষেবা প্রদান করে। সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে এবং একটি ব্ল্যাঙ্ক স্পেস লঞ্চার ইনস্টল করে নিলেই আপনার আইফোনটি একটি সাধারণ ডাম্ব ফোনে রূপান্তরিত হবে, যা আপনাকে ডিজিটাল ডিটক্স করতে সাহায্য করবে।

সুতরাং, আপনার পুরনো আইফোনটি ড্রয়ারে ফেলে না রেখে এই আকর্ষণীয় উপায়গুলোতে ব্যবহার করে দেখুন এবং প্রযুক্তির সুবিধা নিন।