“AI-কে সুপারচার্জ করবে নতুন ধরনের চিপ”-তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা, কমাবে বিদ্যুতের খরচ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। তবে বর্তমানে এআইয়ের বিপুল চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেম রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে তোলে।

এই সমস্যার এক যুগান্তকারী সমাধান খুঁজে পেয়েছেন ‘কলম্বিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের গবেষকরা। তারা নতুন ধরনের একটি চিপ তৈরি করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের এআই সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে দাবি করেছেন।

অধ্যাপক কেরেন বার্গম্যানের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল আলোনির্ভর বা ফোটোনিক এবং প্রচলিত ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিকে একটি থ্রিডি কাঠামোর মধ্যে সমন্বিত করে এই নতুন চিপটি তৈরি করেছে। এই গবেষণাটি সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার ফোটোনিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের দাবি, এই নতুন চিপটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ডেটা স্থানান্তর করতে সক্ষম এবং বর্তমান সিস্টেমের তুলনায় অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে।

অধ্যাপক বার্গম্যান বলেন, “আমরা অবিশ্বাস্যভাবে কম শক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রেরণের একটি উপায় উদ্ভাবন করেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই নতুন চিপ বিভিন্ন এআই সিস্টেমকে দ্রুত এবং আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জের সমাধান করেছে।”

এই যুগান্তকারী চিপটি তৈরিতে ‘কর্নেল ইউনিভার্সিটির’ অধ্যাপক অ্যালিওশা মোলনারের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণা দলও সহযোগিতা করেছে। চিপটিতে ৮০টি লাইট ট্রান্সমিটার ও রিসিভার রয়েছে, যা খুব ছোট একটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৮০০ গিগাবিট পর্যন্ত উচ্চ গতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে সক্ষম।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই চিপ প্রতিটি ডেটা প্যাকেট পাঠাতে মাত্র ১২০টি ফেমটোজুল শক্তি ব্যবহার করে, যা খুবই সামান্য। এই কারণেই প্রচলিত চিপের তুলনায় এটি অনেক বেশি শক্তি সাশ্রয়ী। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, বাণিজ্যিক কারখানায় বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই এই চিপ তৈরি করা হয়েছে, ফলে এর উৎপাদন প্রক্রিয়াও অনেক সহজ এবং কম ব্যয়বহুল।

নির্মাতাদের দাবি, এই নতুন প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেল থেকে শুরু করে রোবট ও স্ব-চালিত গাড়ির রিয়াল-টাইম সিস্টেম পর্যন্ত দ্রুত এবং আরও শক্তিশালী এআই ব্যবহারের পথ খুলে দেবে।

এই চিপের প্রভাব কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সুপার কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের মেমরি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পদ্ধতিকেও উন্নত করতে পারে। পাশাপাশি, এই চিপ দ্রুত ও শক্তি সাশ্রয়ী কম্পিউটিংয়ের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এই গবেষণাটি ‘কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি’, ‘কর্নেল ইউনিভার্সিটি’, ‘এয়ারফোর্স রিচার্স ল্যাবরেটরি’ এবং ‘ডার্টমাউথ কলেজ’-এর যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।