‘AI-নির্ভর আত্মঘাতী ড্রোন’ পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া, বিশ্বকে চমক দিলো কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে সম্প্রতি নতুন একটি আত্মঘাতী ড্রোন নিয়ে পরীক্ষা করতে দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই ড্রোন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা পরিচালিত।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (কেসিএনএ) কর্তৃক প্রকাশিত একটি তারিখবিহীন ছবিতে দেখা যায়, কিম জং উন রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ড্রোনটির পরীক্ষা পরিদর্শন করছেন।

কেসিএনএ আরও জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এআই-নির্ভর এই সামরিক সরঞ্জামগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে উত্তর কোরিয়া সম্ভবত রাশিয়ার সহায়তা পেয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন জানিয়ে উত্তর কোরিয়া তাদের সৈন্য প্রেরণ করেছে।

‘কর্নেল ব্রুকস টেক পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রজার্স মনে করেন, এই হামলাকারী ড্রোনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই ফল।

বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এই ড্রোনগুলো প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে জনসমক্ষে আনে উত্তর কোরিয়া, যা ‘লোটারিং যুদ্ধাস্ত্র’ নামেও পরিচিত। এই ড্রোনগুলো উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব তৈরি ওয়ারহেড বহন করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

গত বছর কেসিএনএ জানিয়েছিল, পিয়ংইয়ং তাদের এসব অস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্য ‘সক্রিয়ভাবে’ কাজ করছে।

জেমস প্যাটন রজার্স আরও বলেন, পিয়ংইয়ং এখন এমন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, যা “দক্ষিণ কোরিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে”।

তিনি মন্তব্য করেন, “উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য এই ড্রোনগুলো তৈরি করার বিষয়ে ভবিষ্যতের কথা খুব স্পষ্টভাবেই ভাবছে।”

তবে তিনি একইসাথে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি হলো, এই অ্যালগরিদমগুলো কোরীয় উপদ্বীপের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট শক্তিশালী, যথেষ্ট নিরাপদ এবং যথেষ্ট উন্নত কিনা।”

রজার্স আরও মনে করেন, এই অত্যাধুনিক ড্রোনটি তৈরিতে উত্তর কোরিয়া সম্ভবত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে।