ফেসবুক স্টোরি তৈরি করবেন যেভাবে, শিখেনিন সহজ পদ্ধতি

নিজের অনুভূতি, চিন্তাভাবনা বা দৈনন্দিন জীবনকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করার জন্য ফেসবুকের ‘স্টোরি’ ফিচার ব্যবহার করছেন অনেকে। এই ফিচারটি শুধু অডিয়েন্সের দৃষ্টি আকর্ষণই করে না, বরং সম্প্রতি মেটা এটির মাধ্যমে আয়ের সুযোগও চালু করেছে। ফেসবুক কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় থাকা সব দেশের ক্রিয়েটররা এখন তাদের স্টোরি থেকে আয় করতে পারবেন। এই নতুন সুবিধা ক্রিয়েটরদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

ফেসবুক স্টোরি কী?

ফেসবুক স্টোরি হলো এমন একটি ফিচার, যেখানে টেক্সট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা যায়, যা ২৪ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারিয়ে যায়। এর দ্রুতগতির এবং অস্থায়ী প্রকৃতি ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য শেয়ার করতে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন ইফেক্ট, স্টিকার এবং টেক্সট যোগ করার সুবিধা এটিকে সাধারণ ফিড পোস্টের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ফেসবুক ফিডের একেবারে ওপরে স্টোরিগুলো প্রদর্শিত হয় এবং এটি ওয়েব ভার্সন ও মোবাইল অ্যাপ উভয় থেকেই ব্যবহার করা যায়।

স্টোরির আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এটি দেখেছে কারা, তা জানা যায়। এছাড়া, অন্য ব্যবহারকারীরা স্টোরিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে বা মন্তব্য করতে পারেন, যা সরাসরি আপনার ইনবক্সে মেসেজ হিসেবে পৌঁছায়। এর ফলে অডিয়েন্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও কথোপকথন শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়।

ফেসবুক স্টোরি তৈরি ও পোস্ট করার পদ্ধতি

ফেসবুক স্টোরি তৈরি করা অত্যন্ত সহজ। এর জন্য বিভিন্ন টুল ও অপশন রয়েছে, যা ক্রিয়েটরদের সৃজনশীলতাকে আরও উৎসাহিত করে। স্টোরি তৈরির ধাপগুলো হলো:

  1. ফেসবুকে প্রবেশ: ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করুন।
  2. ‘ক্রিয়েট স্টোরি’ অপশন: নিউজ ফিডের ওপরে থাকা ‘ক্রিয়েট স্টোরি’ বাটনে ক্লিক করুন।
  3. বিভিন্ন অপশন: নতুন পেজে ছবি, ভিডিও, টেক্সট, মিউজিক, বুমেরাং ও কোলাজ তৈরির অপশন পাওয়া যাবে।
    • ছবি/ভিডিও: গ্যালারি থেকে পছন্দের ছবি বা ভিডিও নির্বাচন করুন।
    • টেক্সট: টেক্সট অপশনে ক্লিক করে পছন্দমতো ফরম্যাটে লিখুন।
    • মিউজিক: গানের তালিকা থেকে পছন্দের গান বেছে নিন এবং ছবি বা ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করুন।
    • বুমেরাং: ক্যামেরা ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম-স্টাইলের বুমেরাং তৈরি করুন।
    • কোলাজ: একাধিক ছবি নির্বাচন করে কোলাজ তৈরি করুন।
  4. গোপনীয়তা সেটিংস: স্টোরিটি পাবলিক করবেন, নাকি নির্দিষ্ট অডিয়েন্সের জন্য সীমাবদ্ধ রাখবেন, তা নির্বাচন করুন।
  5. শেয়ার: সবকিছু ঠিকঠাক হলে ‘শেয়ার’ বাটনে ক্লিক করে স্টোরি পোস্ট করুন।

স্টোরি ডিলিট করার পদ্ধতি

স্টোরি ২৪ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে গিয়ে আর্কাইভে চলে যায়। তবে ভুল করে পোস্ট করা স্টোরি তাৎক্ষণিক ডিলিট করতে চাইলে:

  1. ফেসবুক চালু করে নিউজ ফিডের ওপরে নিজের স্টোরিতে ক্লিক করুন।
  2. ডান কোণায় তিন ডট আইকনে ক্লিক করুন।
  3. ‘ডিলিট’ অপশনে ক্লিক করে স্টোরি মুছে ফেলুন।

আয়ের সুযোগ

মেটা সম্প্রতি ফেসবুক স্টোরিকে কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় এনেছে। এর ফলে যেসব দেশে এই প্রোগ্রাম চালু আছে, সেখানকার ক্রিয়েটররা তাদের পাবলিক স্টোরির ভিউয়ের ভিত্তিতে আয় করতে পারবেন। এই আয় পারফরম্যান্স-ভিত্তিক হবে, অর্থাৎ স্টোরির জনপ্রিয়তা ও দর্শক সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। যারা ইতিমধ্যে প্রোগ্রামে নথিভুক্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে। অন্যরা ফেসবুকের ওয়েবসাইটে আবেদন করে এতে যোগ দিতে পারেন।

ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

ফেসবুক স্টোরির এই নতুন ফিচার ক্রিয়েটরদের জন্য শুধু সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যমই নয়, বরং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার একটি পথও তৈরি করেছে। সহজে তৈরি করা যায় এমন এই স্টোরিগুলো দিয়ে এখন ক্রিয়েটররা তাদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প শেয়ার করার পাশাপাশি অডিয়েন্সের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারবেন এবং আয়ের একটি নতুন উৎস পাবেন।

প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ফেসবুককে ক্রিয়েটরদের জন্য আরও আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত করছে, যা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।