ইইউ’র কড়াকড়িতে বিপর্যস্ত গুগল-অ্যাপল, ডোনাল্ড ট্রাম্প দিলেন হুঁশিয়ারি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ও অ্যাপলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গুগলের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে অ্যাপলকে আইফোন ও আইপ্যাডের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইইউর অ্যান্টিট্রাস্ট নীতির অংশ, যা বিগ টেক কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ইইউর প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষক সংস্থা গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে, কোম্পানিটি অ্যাপ ডেভেলপারদের গুগল প্লে স্টোরের বাইরের অফার সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের জানাতে বাধা দিচ্ছে। এছাড়াও, গুগল সার্চে গুগল ফ্লাইটসের মতো নিজস্ব পরিষেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাপলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আইফোন ও আইপ্যাডের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর পণ্য ও পরিষেবাগুলোকে তাদের ইকোসিস্টেমে প্রবেশাধিকার দেয়।

ইইউর অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান টেরিজা রিবেরা এক বিবৃতিতে বলেন, “গুগল সার্চ ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পরিষেবাগুলোতে গুগল যেন ইইউর নিয়ম মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

গুগল এই অভিযোগের বিরোধিতা করে বলেছে, ইইউর সিদ্ধান্ত ভোক্তা ও ব্যবসার ক্ষতি করছে। গুগলের প্রতিযোগিতা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক অলিভার বেথেল এক ব্লগ পোস্টে বলেন, “কমিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা সার্চ ফলাফলে আরও পরিবর্তন আনতে পারি। তবে এতে গ্রাহকরা যা খুঁজছেন তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং ইউরোপীয় ব্যবসাগুলোর ট্রাফিক কমে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, অ্যান্ড্রয়েড ও গুগল প্লে পরিষেবার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে গুগলকে যৌক্তিক ফি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

অ্যাপলের বিরুদ্ধে ইইউর প্রথম আদেশে বলা হয়েছে, স্মার্টফোন, হেডফোন ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেট নির্মাতাদের প্রযুক্তি ও মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। অ্যাপল এই নির্দেশের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি ব্যবহারকারীদের ক্ষতি করবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাহায্য করবে। অ্যাপল এক ইমেইলে জানায়, “ইইউর সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জটিলতার মধ্যে ফেলেছে এবং ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জন্য উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিয়েছে।”

ইইউর ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ (ডিএমএ) মেনে চলার জন্য গুগল ও অ্যাপলের উপর চাপ বাড়ছে। এই আইনের লক্ষ্য বিগ টেক কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। গত কয়েক দশকে ইইউ গুগলকে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘনের জন্য ৮৭০ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা করেছে। ডিএমএ লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে গুগলকে তার বার্ষিক বিক্রির ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

অ্যাপলও ইইউর আদেশ মানতে ব্যর্থ হলে তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে পারে। এই পদক্ষেপ ইইউর বিগ টেক কোম্পানিগুলোর উপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার নীতির অংশ। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তগুলি প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।