“১০ বছর নয়, কয়েক বছরেই আসছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার”-দাবি মাইক্রোসফটের

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হতে আর কয়েক দশক নয়, বরং কয়েক বছরের অপেক্ষা।

সম্প্রতি, “মাজোরানা ১” নামের একটি নতুন চিপ উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। মাইক্রোসফটের মতে, এই চিপের মাধ্যমে এমন কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা সম্ভব, যা শিল্প পর্যায়ের বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে নতুন যুগের সূচনা?
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মাজোরানা ১” কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সর্বশেষ বড় অগ্রগতি। এই প্রযুক্তি কণা পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ব্যবহার করে এমন একটি কম্পিউটার তৈরি করবে, যা সাধারণ কম্পিউটারের সমাধান করতে অক্ষম জটিল গণনা সহজেই করতে পারবে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির জন্য আরও কয়েক দশক সময় লাগবে। মাইক্রোসফটের মতে, তাদের নতুন ‘টপোলজিক্যাল কন্ডাক্টর’ ভিত্তিক চিপ এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারবে।

মাজোরানা ১: কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের নতুন বিপ্লব?
মাইক্রোসফটের দাবি, “টপোকন্ডাক্টর” নামের নতুন উপাদান সেমিকন্ডাক্টরের মতো যুগান্তকারী হতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

তবে, গবেষকদের মতে, নতুন প্রযুক্তির তাৎপর্য ও এর প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং পূর্বে বলেছিলেন, ২০ বছরের মধ্যে কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসবে। তবে, মাইক্রোসফটের নতুন চিপ এই সময়সীমাকে আরও কমিয়ে আনতে পারে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমন হিসাব করতে পারে, যা প্রচলিত কম্পিউটারের পক্ষে সম্ভব নয়।

🔹 মেডিকেল রিসার্চ, রসায়ন ও ব্যাটারি উন্নয়নে এটি বিপ্লব আনতে পারে।
🔹 নতুন ওষুধের আবিষ্কার, জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি-তে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔹 প্রচলিত কম্পিউটার যেখানে লাখ লাখ বছর লাগাবে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সমাধান দিতে পারে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারে বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা
বর্তমানে, সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরিতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করছে।

তবে, মাইক্রোসফট তাদের “মাজোরানা ১” চিপ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে মনে করছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

🔗 সূত্র: বিবিসি