শিশুকে পড়াশোনায় মেধাবী করে তোলার ৫ উপায়, যা জানা জরুরি সকলের

সন্তানের মেধার বিকাশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত থাকেন পিতামাতারা। স্কুলে শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে তো আরও বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন তারা। কীভাবে সন্তানের বুদ্ধিমত্তা বাড়বে ও মেধা উন্নত হবে এ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয় পরিবারেও। এই বিষয়ে আমেরিকান ব্রেন ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানীরা হাজির করেছেন কিছু পরামর্শ।
গবেষকদের মতে, জন্মের পর থেকে অন্তত ৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটতে থাকে। এর সঙ্গে অন্তত ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও মেধা বাড়ানোয় সন্তানদের ধরিয়ে দিতে হবে কিছু অভ্যাস ও অনুশীলন।
শব্দখেলা-সুডোকু: ব্রেন গেমসে এই ধরনের খেলা বেশ পরিচিত। ছোটদের নানা পত্রিকায় বা অনলাইনে এমন ওয়ার্ড গেমস বা শব্দজট ও সুডোকুর সন্ধান মেলে। সেগুলো বাচ্চাদের মাথা খাটানোর জন্যই দেয়া হয়। তাদের পরিচিত সব শব্দ নিয়ে এগুলো তৈরি হয়। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এসব শব্দখেলা পিতামাতা নিজেরাও বানিয়ে দিতে পারেন সন্তানদের। প্রতিদিন অল্প সময় এসব খেলায় শিশুদের ব্যস্ত রাখতে পারলে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়বে।
দাবা: দৌড়ঝাঁপ খেলার সঙ্গে বুদ্ধিভিত্তিক খেলার সঙ্গেও শিশুদের পরিচিতি ঘটান। এতে বাচ্চার বুদ্ধি বাড়বে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়বে। কৌশলী হয়ে উঠবে সে। কারণ অন্য যেকোনো খেলা থেকে দাবা খেলা শিশুর মস্তিষ্ককে বেশি পরিশ্রম করায়। এ ছাড়া মানসিকভাবে অনেক শান্ত ও দৃঢ় হতে সাহায্য করে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
অ্যাবাকাস: বড় বড় অঙ্কের সমাধান সহজ উপায়ে করে ফেলা যায় অ্যাবাকাসের মাধ্যমে। মুখে মুখে করে ফেলা বা দ্রুত অঙ্ক করতে অ্যাবাকাসে অভ্যস্ত করতে তুলতে পারেন সন্তানকে। এতে ছোটবেলা থেকেই তার গণিতভীতি দূর হবে এবং আরও কৌশলী হবে।
যন্ত্রসংগীত: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকে কোনো না কোনো যন্ত্রসংগীত শিখছে এমন শিশুর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বেশি। নোটেশন মনে রাখা বা ছন্দ-তাল মাথায় রাখার অভ্যাস, সুর মস্তিষ্কে গেঁথে রাখা শিশুর মেধাকে আরও বেশি শাণিত করে।
নিশ্বাসের ব্যায়াম: নিশ্বাসের ব্যায়াম শিশুদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বড় করে শ্বাস নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে সেই শ্বাস ছাড়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ানো। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণা অনুসারে, আট সপ্তাহ ধরে টানা এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে হাইপোথ্যালামাসের একের চার ভাগ অংশ বেশি সক্রিয় হতে শুরু করে। এতে শিশুর মস্তিষ্ক সতেজ থাকে।