অর্শের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন? খাওয়া দাওয়ার কোন ভুলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে দেখেনিন

সকালে উঠে শৌচালয়ের কাজ সারতে গিয়ে দেরি হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি অনেকেরই কমবেশি আছে। এই সমস্যাটি শুধুমাত্র মানসিক শান্তির ব্যাঘাতই ঘটায় না, দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা থাকলে তা অর্শের মতো রোগের কারণ হতে পারে।
অর্শ বা পাইলস হল মলদ্বারে রক্তনালী ফুলে যাওয়ার একটি রোগ। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মলত্যাগের সময় এই ফুলে যাওয়া রক্তনালীগুলি চাপের সম্মুখীন হয় এবং ফাটতে পারে। ফলে রক্তপাত হয়।
অর্শের সমস্যাটি বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে কমবয়সিদের মধ্যেও এটি দেখা দিতে পারে। অর্শের সমস্যায় আক্রান্ত হলে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে রোগের প্রকৃতি আরও জটিল হতে থাকে।
পুষ্টিবিদদের মতে, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনলেই অর্শের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। অর্শের রোগীদের জন্য কিছু খাবার খাওয়া উচিত এবং কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
কী খাবেন?
দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল ও শাকসব্জি: দ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মলকে নরম করে। তাই অর্শের রোগীদের উচিত প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল ও শাকসব্জি খাওয়া। যেমন:
সবুজ শাকসবজি, যেমন পালং শাক, ব্রকলি, লেটুস, বেগুন, টমেটো, গাজর, শসা ইত্যাদি।
ফল, যেমন পেঁপে, কলা, আনারস, আপেল, কমলা, আম ইত্যাদি।
জল: জল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তাই অর্শের রোগীদের উচিত প্রচুর পরিমাণে জল পান করা।
গোটা শস্য: গোটা শস্য থেকে তৈরি খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তাই অর্শের রোগীদের উচিত গোটা শস্যের রুটি, ভাত, ওটস ইত্যাদি খাওয়া।
ডাল: ডাল প্রোটিন, ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তাই অর্শের রোগীদের উচিত বিভিন্ন প্রজাতির ডাল, যেমন মুগ ডাল, ছোলা, মটর ডাল, রাজমা ইত্যাদি খাওয়া।
কী খাবেন না?
দুগ্ধজাত খাবার: দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। ক্যালসিয়াম কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে। তাই অর্শের রোগীদের উচিত দুধ, পনির, চিজ় ইত্যাদি দুগ্ধজাত খাবার কম খাওয়া।
মাংস: মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। প্রোটিনও কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে। তাই অর্শের রোগীদের উচিত মাংস, বিশেষ করে পাঁঠার মাংস কম খাওয়া।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ, চিনি ও তেল থাকে। এই খাবারগুলি কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে এবং অর্শের সমস্যা বাড়ায়। তাই অর্শের রোগীদের উচিত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।
তেল-মশলাদার খাবার: তেল-মশলাদার খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে এবং অর্শের সমস্যা বাড়ায়। তাই অর্শের রোগীদের উচিত তেল-মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলা।
মদ্যপান: মদ্যপান কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে এবং অর্শের সমস্যা বাড়ায়। তাই অর্শের রোগীদের উচিত মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
অর্শের সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করাও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানো অর্শের সমস্যা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।