৬ মাসে কমল ৫৫ কেজি ওজন কমিয়ে তাক লাগল ‘গোলুমোলু’ শেহনাজ গিল! ডায়েট চার্ট ফাঁস করলেন নিজেই

পাঞ্জাবের সাধাসিধে মেয়ে শেহনাজ গিল, যাঁর ভাগ্য ‘বিগ বস’-এর হাত ধরে রাতারাতি বদলে গিয়েছিল, তিনি এখন কেবল অভিনয় দিয়েই নয়, তাঁর অসামান্য শারীরিক পরিবর্তনের জন্যেও চর্চায়। সম্প্রতি এক রিপোর্ট অনুযায়ী, শেহনাজ গত ৬ মাসে প্রায় ৫৫ কেজি ওজন কমিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন! এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের পেছনের রহস্য এবার নিজেই ফাঁস করেছেন এই তারকা, যেখানে সঠিক ডায়েট এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব উঠে এসেছে।
শেহনাজের ফিটনেস জার্নি:
শেহনাজ তাঁর ওজন কমানোর যাত্রায় কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন। তাঁর প্রতিদিনের রুটিন এমনভাবে সাজানো ছিল যা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করেছে।
সকালের শুরু ও প্রাতঃরাশ:
শেহনাজ তাঁর সকাল শুরু করতেন এক গ্লাস হলুদের জল এবং এক কাপ চা দিয়ে। এরপর প্রাতঃরাশে থাকত প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার যেমন সবজি দিয়ে চিঁড়ের পোলাও, মুগ ডালের ছিলা অথবা ধোসা।
শরীরচর্চা:
প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা যোগাসন করতেন শেহনাজ। যোগাসন শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক প্রশান্তি আনতেও তাঁকে সাহায্য করেছে বলে তিনি জানান।
দুপুরের খাবার:
দুপুরের খাবারে শেহনাজ এমন সব খাবার রাখতেন যা শুধু সহজপাচ্যই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তাঁর প্লেটে থাকত ডাল, স্যালাড ও স্প্রাউটস, স্ক্যাম্বলড টোফু এবং মাল্টিগ্রেন আটা দিয়ে তৈরি একটি রুটি, যেখানে ঘি মাখানো থাকত। এটি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারের সঠিক মিশ্রণ ছিল।
বিকেলের জলখাবার:
বিকেলের জলখাবারে শেহনাজ খেতেন একমুঠো ঘি দিয়ে ভাজা রোস্টেড মাখানা। মাখানা প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা হার্টকে ভালো রাখে, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
রাতের খাবার:
রাতের খাবার থাকত আরও হালকা। শেহনাজ খেতেন খিচুড়ি, দই এবং বটল গার্ডের স্যুপ (লাউয়ের স্যুপ)। রাতে হালকা খাবার, বিশেষ করে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া হজম ক্ষমতা ভালো রাখতে, পেট পরিষ্কার রাখতে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। সঠিক পরিমাণে ডিনার করলে ব্লোটিং হয় না এবং মেটাবলিজমও ভালো থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও চিট মিল:
শেহনাজ গিলের মতো ছিপছিপে হতে চাইলে পর্যাপ্ত ঘুমও খুব জরুরি। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো এবং শরীরকে সঠিক বিশ্রাম দেওয়া আবশ্যক। এছাড়াও, নিজের ওজন কমানোর জার্নির ট্র্যাক রাখা দরকারি। সকালে পেট পরিষ্কার করার পর ওজন মাপার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শেহনাজ মাঝে মাঝে ‘চিট মিল’-এর পক্ষেও সওয়াল করেছেন। প্রতি ৭-১০ দিন পর অন্তত একটি মিলে পছন্দের খাবার রাখার পরামর্শ দেন তিনি, তবে অবশ্যই তা পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে, নয়তো কষ্ট বৃথা হবে।