দিদি নম্বর ওয়ানে আসছেন বি.এড ফুচকা দিদি, এত পড়শোনা করেও কেন এই কাজকে বেছে নিলেন তিনি?

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া ‘B.Ed ফুচকা দিদি’ এবার ছোট পর্দার দর্শকদের চমকে দিতে চলেছেন। দিল্লিতে ফুচকা বিক্রি করে ভাইরাল হওয়া এই যুবতী এবার হাজির হচ্ছেন বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্চালিত এই শোয়ের একটি বিশেষ পর্বের প্রোমো সম্প্রতি চ্যানেলের সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় প্রকাশ পেয়েছে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

রবিবার রাতে জি বাংলার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে দিদি নম্বর ১-এর আসন্ন একটি বিশেষ পর্বের প্রোমো প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা মিলেছে সেই ভাইরাল ‘B.Ed ফুচকা দিদি’ চন্দ্রিকা দীক্ষিতের। প্রোমোর ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস ওভারে তাঁর সম্পর্কে বলতে শোনা যাচ্ছে এক পুরুষ কণ্ঠকে। তিনি বলছেন, “B.Ed দিদির ফুচকা খেতে সবাই ভালোবাসে, বিকেলবেলা ভিড় হয়ে যায় গাড়ির চারপাশে। বাবা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর ফুচকা বিক্রি করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর গল্প দিদি নম্বর ওয়ানে।” এরপর ফুচকা দিদি নিজে হাসি মুখে বলেন, “আমি B.Ed ফুচকা দিদি, দিদিকে ফুচকা খাওয়াতে আসছি দিদি নম্বর ওয়ানে।” চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই ভিডিয়োটি পোস্ট করে ক্যাপশানে লিখেছেন, “দিদির মঞ্চে, দিদিকে ফুচকা খাওয়াতে আসছেন – B.Ed ফুচকা দিদি!! দেখুন দিদি NO. 1 আগামী মঙ্গলবার @ 4:30 PM, শুধুমাত্র #ZeeBangla-র পর্দায়”। অর্থাৎ, আগামী মঙ্গলবার (মে ৬, ২০২৫) বিকেল সাড়ে চারটেয় দেখা যাবে এই বিশেষ পর্ব।

দিদি নম্বর ১-এর মতো জনপ্রিয় মঞ্চে ‘B.Ed ফুচকা দিদি’র উপস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটপাড়ায় একাংশ সমালোচনা এবং ট্রোলিংয়ে মেতে উঠেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, B.Ed ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও ফুচকা বিক্রি করাটা এমন কী বড় ব্যাপার যে তাকে নিয়ে এত প্রচার করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি পুরোটাই নাটক এবং জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে হয়তো তিনি এবার অভিনয় জগতে পা রাখবেন। এক নেটিজেন সমালোচনা করে লিখেছেন, “নাটক…b.ed করাটা কোনো বিশাল ব্যাপার নয়, কতো মার্কস পেয়ে এসেছো ছোটো বেলা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত সেটা দেখাও তবে বোঝা যাবে how much talented you are।”

তবে নেটিজেনদের একাংশ আবার ‘B.Ed ফুচকা দিদি’র পাশে দাঁড়িয়েছেন। যাঁরা তাঁকে ট্রোল করছেন, তাঁদের পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন অনেকে। তাঁরা বলছেন, একজন শিক্ষিত মেয়ে পরিস্থিতির চাপে পড়ে সম্মানজনকভাবে রোজগার করছেন, এর মধ্যে আপত্তির কী আছে? অনেকে মনে করছেন, যারা সমালোচনা করছেন তারা হয়তো তাঁর দ্রুত জনপ্রিয়তা এবং সাফল্যের জন্য ঈর্ষান্বিত। একজন পাল্টা মন্তব্য করেছেন, “যা বুঝতে পারলাম সবার খুব… আর হিংসে হচ্ছে, মাত্র ৩ দিনে ফুচকার স্টল খুলে ভাইরাল হয়ে গেছে তো তাই সেটা কিছু কিছু মানুষ নিতে পারছে না।” আবার কেউ কেউ কিছুটা শ্লেষের সুরে লিখেছেন, “এই নাহলে দিদির রাজ্য। B.Ed করে ফুচকা বিক্রি, দরকার কি ছিল তাহলে B.Ed করার?” আবার কারোর টিপ্পনী, “দিদির ফুচকা নয় ঘোল খাওয়া উচিৎ।” এই ধরনের নানান মন্তব্য উঠে এসেছে নেটপাড়ায়।

উল্লেখ্য, দিদি নম্বর ওয়ানের মঞ্চে দীর্ঘ দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহু মহিলার জীবনের লড়াই এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে তাঁরা হার না মেনে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, সেই সব কাহিনি দর্শকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ‘B.Ed ফুচকা দিদি’র গল্পও সেই ধরনের একটি জীবনযুদ্ধের গল্প বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর এই পর্ব ঘিরে বিতর্ক থাকলেও, টিআরপি-র দিক থেকে এটি চ্যানেলকে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।