হোলি উৎসবে রং নয় রক্তে রাঙা মিমি! দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল কি নির্ঝরের ‘ডাইনি’?

নির্ঝর মিত্রের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ডাইনি’ শুধুই বিনোদন নয়, এটি সমাজের দীর্ঘদিনের এক অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরার এক শক্তিশালী প্রতিবাদ।

‘ডাইনি’ সিরিজের গল্প শুরু হয় উত্তরবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামের পটভূমিতে। সমাজের অন্ধবিশ্বাস এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বলি হয় এক নিরীহ মেয়ে ‘লতা’। গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, গ্রামের দুর্ভাগ্যের জন্যই লতাকে ‘ডাইনি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক এই সময় বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসে ‘পাতা’ (মিমি চক্রবর্তী), যে তার বাবার সম্পত্তি ভাগের জন্য দেশে ফিরে এলেও, পরিস্থিতি দেখে নিজের বোন লতাকে বাঁচানোর জন্য লড়াইয়ে নামে। সমাজের চাপ, অত্যাচার, এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের বোনের জীবন বাঁচানোর চেষ্টায় এগিয়ে চলে পাতা।

মিমি চক্রবর্তীর অভিনয় এই সিরিজের প্রাণ। গ্ল্যামারাস ইমেজ থেকে বেরিয়ে এসে, রক্তাক্ত মুখ আর ক্লান্ত দৃষ্টিতে তিনি যে কষ্টের ছাপ ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। লতার চরিত্রে কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ও প্রশংসনীয়। তবে, সবচেয়ে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দিয়েছেন খলনায়ক বিশ্বজিত্‍ দাস, যার নিষ্ঠুরতা আপনাকে কাঁপিয়ে দেবে।

নির্ঝর মিত্রের পরিচালনা সিরিজটিকে বাস্তবের ছোঁয়া দিয়েছে। ক্যামেরার কাজ থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, সব কিছুই পরিপূর্ণ। বিশেষ করে সিরিজের কালার প্যালেট ও গ্রাম বাংলার দৃশ্যপট দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে। প্রতিটি পর্বের শেষে যে ক্লিফ-হ্যাঙ্গার রাখা হয়েছে, তা দর্শকদের পরের এপিসোড দেখার জন্য উত্সাহিত করবে।

‘ডাইনি’ সিরিজটি কেবল একটি গল্প নয়, এটি সমাজের সেই অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। আজও আমাদের সমাজের কিছু অংশে ‘ডাইনি’ বলে নিরীহ মহিলাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। এই সিরিজ সেই অমানবিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে এবং সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

‘ডাইনি’ এমন একটি সিরিজ যা শুধু বিনোদন নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যদি আপনি সাহসী গল্প পছন্দ করেন এবং সমাজের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চান, তবে ‘ডাইনি’ আপনাকে হতাশ করবে না।