TET: ৩২,০০০ শিক্ষকের মামলা ডিভিশন বেঞ্চে পাঠাল সুপ্রিমকোর্ট, চূড়ান্ত রায় হবে শিগ্রই

২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী। ২০১৬ সালে তাদের মধ্যে ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন প্রিয়াঙ্কা নস্কর সহ ১৪০ জন টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৩২ হাজার প্রার্থী ছিলেন অপ্রশিক্ষিত।

এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং চাকরিহারাদের একাংশ। ১৯ মে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতির সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ চাকরিপ্রার্থীদের নির্দেশে ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। তাতে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এখনই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছে না। তবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে তাঁদের। সেখানে সফল না হলে তাঁদের চাকরি থাকবে না।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ওই শিক্ষকরা পাঁচ বছর ধরে চাকরি করছেন। তাই তাঁদের বক্তব্য শোনা উচিত ছিল হাইকোর্টের। কিন্তু, সিঙ্গেল বেঞ্চ বা ডিভিশন বেঞ্চ কেউই তাঁদের বক্তব্য শোনেনি। এক পক্ষের বক্তব্য শুনলে তাঁরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাছাড়া, বিশাল সখ্যক প্রার্থীর নিয়োগ, ইন্টারভিউ অনেক জটিল প্রক্রিয়া এবং ব্যয় সাপেক্ষ তাই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এরপরে ডিভিশন বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই রায় নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চ এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এই মামলায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা এখন ডিভিশন বেঞ্চই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *