কারাগারে হয় দুজনের প্রেম, প্যারোলে মুক্তি পেয়েই দুই কয়েদির বিয়ে

কারাগারের ভেতর পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে গভীর প্রেম। অবশেষে সেই প্রেমের সার্থক পরিণতি ঘটলো বিয়ের মাধ্যমে। গল্প নয়, বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে।

বুধবার (১২ জুলাই) ধর্ষণ মামলায় বন্দি আব্দুল হাসিম ও হত্যা মামলার আসামি শাহানার খাতুনের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের দোরাং জেলার রঙ্গনগারোপাথার গ্ৰামের বাসিন্দা আব্দুল হাসিম। আর শাহানারা খাতুনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নানুর থানার উচকারন-বালিগড়ি এলাকায়।

আব্দুল হাসিম ধর্ষণ মামলায় আট বছর ও শাহানার খাতুন হত্যা মামলায় ছয় বছর ধরে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি। বছর তিনেক আগে দু’জনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে পরিচয় গড়ায় প্রণয়ে।

হাসিম ও শাহানারা জানান, তারা বিয়ে করতে চান জেনে দুই পরিবারের কেউই আপত্তি করেনি। বরং শাহনারার বাবা আব্দুস সাত্তার নিজে কারাবন্দি মেয়ের ইচ্ছার কথা একটি মানবাধিকার সংগঠনকে জানান। এরপর গত ১৬ জুন রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরির দ্বারস্থ হন তারা। তিনি আবেদন মঞ্জুর করতেই শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি।

অবশেষে গত বুধবার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে আইনিভাবে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন হাসিম-শাহানারা। স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় পেয়ে দু’জনেই যারপরনাই খুশি। তবে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত জেলেই কাটবে তাদের বিবাহিত জীবন।

নবদম্পতির কথায়, কপালে দোষে জেলে রয়েছি। এখন মুক্তি পেলেই সুখের সংসার করবো।

মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শেখ জানিয়েছেন, আগামী ১৬ জুলাই সংশোধনাগারে ফিরে যেতে হবে নববিবাহিত আব্দুল হাসিম ও শাহনারা খাতুনকে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *