একেই বলে মশা মারতে কামান দাগা, এবার ড্রোন দিয়ে মশা মারছে আমেরিকা!

বৃষ্টির দিনে সাধারণত মশার উৎপাত বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তার সঙ্গে বাড়ে মশাবাহিত রোগ বিস্তারের ঝুঁকিও। এ অবস্থায় মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হুট করে নয়। এর কার্যকারিতা, পরিবেশের ওপর প্রভাব, বন্যপ্রাণীর কোনো ক্ষতি করবে কি না তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই মশা মারতে ড্রোন নামিয়েছে তারা।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় অরেঞ্জ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ মশা মারতে এই ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এতে মূলত ড্রোনগুলো জলাভূমির ওপর গিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ব্যাকটেরিয়া স্পোর ছিটিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে মশার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ষার মৌসুমে মাশার উৎপাত বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। মশা সাধারণত পানিতে ডিম পাড়ে। তা থেকে জন্ম নেয় লার্ভা। এরপর সেটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হয়। এদের ধ্বংস করতে মার্কিন অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন জলাভূমি, বড় পুকুর ও পার্কগুলোতে ড্রোন দিয়ে ব্যাকটেরিয়া স্পোর ছিটানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সান জোয়াকিন জলাভূমিতে মশা মারতে ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জন স্যাভেজ। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মশা কিছুটা বেশি। এখানে প্রায় প্রতিটি জলাভূমি কানায় কানায় পূর্ণ।

লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণে প্রায় ২ হাজার ৭০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই অরেঞ্জ কাউন্টি মশা ও ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ জেলাটি। খবর বলছে, এ অঞ্চলের ফাঁদগুলোতে গত ১৫ বছরের গড়ের তুলনায় তিনগুণ মশা ধরা পড়ছে৷

মশা মারার সাধারণ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাকপ্যাক স্প্রেয়ার, ট্রাক, হেলিকপ্টার ও প্লেনের ব্যবহার। তবে জেলা কর্তৃপক্ষের মতে, এসবের তুলনায় ড্রোন ব্যবহার উত্তম। এর মাধ্যমে আরও সুনির্দিষ্ট এলাকায় স্প্রে করা যায় এবং তার জন্য সংবেদনশীল জমিতে পা রাখার প্রয়োজনও পড়ে না।

জেলার ভেক্টর ইকোলজিস্ট কিয়েট নগুয়েন জানান, ড্রোনগুলো পাখির বাসাগুলোর চেয়ে উঁচু দিয়ে উড়ে যায় এবং এমন জায়গাগুলোতে পৌঁছায়, যেখানে ব্যাকপ্যাক স্প্রেয়ার বা ট্রাকসহ কোনো ব্যক্তির পৌঁছানো অসম্ভব।

তিনি জানান, ড্রোনটি দুই মিনিটের মধ্যে এক একর জমিতে স্প্রে করতে সক্ষম, যা করতে ব্যাকপ্যাকসহ একজন কর্মীর এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।

এছাড়া, এটি পাখিদের বিরক্তও করে না। স্যাভেজ বলেন, আমরা যেখানে পাখি দেখেছি, সেখানে গবেষণা করেছি। পাখিরা সাধারণত ড্রোন অতিক্রম করার পরপরই ফিরে আসে। সুতরাং এটি পরিবেশের জন্যেও ভালো।

সূত্র: এপি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *