ওয়াই-ফাইয়ের ‘স্পিড’ কম, বাড়িওয়ালিকে মারার চেষ্টা ক্ষুব্ধ যুবকের, গ্রেফতার যুবক

ওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের গতি কম হওয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ষাটোর্ধ্ব বাড়িওয়ালিকে মারার চেষ্টা করেছেন ভাড়াটিয়া এক যুবক। ছুরি বের করে তিনি প্রথমে বাড়িওয়ালিকে পুরো পরিবারসহ মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ঘটেছে এ ঘটনা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে জানা যায়, ৩০ বছর বয়সী চীনা ওই যুবকের নাম লি জিন। পেশায় তিনি একটি হোটেলের হাউজকিপার ছিলেন। বাড়িওয়ালির ওপর হামলার ঘটনায় গত সপ্তাহে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত।
ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর (ডিপিপি) অ্যাশলে পোহ জানান, গত ১৬ মে সন্ধ্যায় লি ছয় ক্যান বিয়ার পান করার পর মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন। ওই সময় তার বাড়িওয়ালি লিন সুহুয়া দরজা বন্ধ করে নিজের ঘরে ছিলেন।
এসময় লি ওয়াই-ফাই নিয়ে অভিযোগ জানাতে লিনের দরজার সামনে যান এবং তাকে বেরিয়ে আসতে বলেন। পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে লি তার প্যান্টের পেছন দিক থেকে ১৪ সেন্টিমিটার লম্বা ব্লেডসহ একটি ছুরি বের করেন এবং লিনকে তার ঘরে টেনে নিয়ে যান। এরপর বৃদ্ধাকে বিছানার ওপর চেপে ধরেন।
তবে একটু পরে ছুরিটি ফের প্যান্টের পেছনে রাখেন এ যুবক। এরপর তাকে কিছুটা শান্ত করার পর সু জু নামে আরেক ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চলে যান লিন।
এই পর্যায়ে লিনের তৃতীয় ভাড়াটিয়া জি ঝাওলিয়াং লিকে ফোন করে বলেন, তিনি দুই ঘণ্টা ধরে নিচে তার জন্য অপেক্ষা করছেন। লিন তখন জোরে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করেন, জি কেন কাজ শেষে বাসায় ফেরেননি এবং তাকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেন।
লি ফোন রাখার পরে জি কেন দেরি করলেন জানতে চান বাড়িওয়ালি। জবাবে লি বলেন, কারণ তাকে বলেছিলাম, আমি পুরো পরিবারসহ আপনাদের সবাইকে হত্যা করবো।
এই হুমকিতে ভয় পেয়ে যান ৬১ বছল বয়সী লিন। কারণ তিনি জানতেন, লির কাছে তখনো ছুরিটি রয়েছে।
এরপর জি ঘরে ঢোকার পরে লির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার কথা জানান লিন এবং ক্ষুব্ধ যুবকের কাছে ছুরি থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। এতে আরও ক্ষেপে গিয়ে লিনকে ফের বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন লি এবং তার গলা টিপে ধরেন।
এসময় জি এগিয়ে এসে তাকে বাধা দেন। এই সুযোগে লিন নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দেন। তবে উন্মত্ত লি বারবার তার দরজায় ধাক্কাধাক্কি এবং চিৎকার করতে থাকেন। অবশেষে আরেক ব্যক্তি এসে পুলিশ ডাকার পর ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।
আদালতে লি দাবি করেছেন, তিনি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরে কাজ করছেন। তবে শহরটির কঠোর আইন সম্পর্কে জানতেন না। জানলে এ ধরনের আচরণ করতেন না। এ কারণে সাজা কম দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সিঙ্গাপুরের আইন অনুসারে, শ্বাসরোধ করার দায়ে লির তিন বছর পর্যন্ত জেল, পাঁচ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারতো।