সিনিয়রদের র্যাগিং সইতে না পেরে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের!
কলেজে র্যাগিংয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র। রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ।
মৃতের পরিবার জানিয়েছে, কলেজে সিনিয়র ছাত্রেরা ওই যুবককে হেনস্থা করত। তার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সে। ঘটনাটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোর জেলার।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কাবলী রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের উপর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে চলন্ত ট্রেনের সামনে পড়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তিনি আত্মহত্যা করেছেন, না দুর্ঘটনায় এই মৃত্যু, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত ছাত্রের নাম টি প্রদীপ কুমার (২০)। সে শঙ্করনগরম এলাকার বাসিন্দা। আরএসআর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সে ইলেট্রনিক্স এবং কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।
তার মৃত্যুকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসাবেই ধরে নেয়া হয়েছিল। পুলিশের অনুমান ছিল, ওই ছাত্র রেললাইনের ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অসাবধানতাবশত চলন্ত ট্রেনের সামনে চলে আসেন। কিন্তু সোমবার পরিবারের পক্ষ থেকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
ছাত্রের অভিভাবকেরা জানান, কলেজে ভর্তির পর থেকেই লাগাতার র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছিল প্রদীপ। সে স্বভাবগত ভাবে ছিল নম্র, চুপচাপ। তাকে কলেজের সিনিয়ররা নানা ভাবে হেনস্থা করত বলে অভিযোগ।
অভিভাবকেরা আরো জানান, কলেজের সিনিয়র ছাত্ররা মাঝেমধ্যেই প্রদীপের ফোন কেড়ে নিত। বিয়ার অথবা বিরিয়ানি কিনে দেওয়া, অথবা মেয়েদের নম্বর জোগাড় করে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হত।
বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রদীপ। এমনকি সে কলেজ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করে। অভিযোগ, এর পরে র্যাগিংয়ের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
আত্মহত্যার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রদের খোঁজ চলছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।