২৩ বছরের খরা কাটালেন গুরনুর ব্রার! ওয়েলিংটনে আগুনে বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ধূলিসাৎ করে ইতিহাস ভারতের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুরন্ত ছন্দে টিম ইন্ডিয়া। ওয়েলিংটনের হেগলি ওভালে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পণ্ড হওয়ার উপক্রম হলেও, বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ভারতের জয়ের পথ প্রশস্ত করলেন তরুণ পেসার গুরনুর ব্রার। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিগত ২৩ বছরের মধ্যে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন ২৯ বছর বয়সি এই উদীয়মান তারকা।
গতি ও বাউন্সের জাদুতে ধসে পড়ল কিউই ব্যাটিং
ম্যাচটি বৃষ্টি বিঘ্নিত হলেও শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের কড়া মেজাজে পাওয়া গেছে। প্রথম ইনিংসে বোলিং করতে নেমে আকিব নবি ও অংশুল কম্বোজের প্রাথমিক ধাক্কার পর বল হাতে ঝড় তোলেন গুরনুর ব্রার। নিজের গতির বৈচিত্র্য ও অতিরিক্ত বাউন্স ব্যবহার করে কিউই মিডল অর্ডারকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেন তিনি।
মাত্র ৩০ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন গুরনুর। তাঁর এই বিধ্বংসী স্পেলের বিশেষ হাইলাইট ছিল পরপর দুই বলে টম লাথাম এবং গ্লেন ফিলিপসকে প্যাভিলিয়নে ফেরানো। এই জোড়া ধাক্কা খাওয়ার পর মাত্র ৫৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে স্বাগতিক দল। এর আগে ২০০৩ সালে ওকল্যান্ডে জাভাগাল শ্রীনাথে ৪/২৩-এর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় পেসার হিসেবে এটিই সেরা বোলিং ফিগার। নবি ও কম্বোজ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে গুরনুরকে দারুণ সঙ্গ দেন। কিউইদের হয়ে ড্যারিল মিচেল (৫৫) ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (৩১) কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও দলীয় স্কোর ১৩৪ রানের বেশি এগোতে পারেনি। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কিউই ব্যাটাররা পুরো ইনিংসে মোট ১৭৬টি ডট বল খেলতে বাধ্য হন।
ব্যাট করতে নেমেও চরম নাটক, শেষ হাসি ভারতের
১৩৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় দলও শুরুতেই ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে। জ্যাব ডফির বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে স্কোরবোর্ডে রান তোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন শুভমন গিল। একে একে বিরাট কোহলি (৭), রোহিত শর্মা (২৩) এবং অক্ষর প্যাটেলরা (৭) ব্যর্থ হলে ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া।
এরপর শ্রেয়াস আইয়ার (৩০) ও কেএল রাহুল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভারত যখন ২৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৩ রান তুলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ডিএলএস (DLS) নিয়মে পার স্কোরের চেয়ে ৪ রানে এগিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত ভারত ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয়। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে নিল ভারত। আর এই পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিলেন ২৩ বছর পর কিউই মুল্লুকে নজির গড়া গুরনুর ব্রার।