শান্তিপুরের বিখ্যাত ‘বামা কালীর নাচ’ নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত! বিসর্জনে বদলে গেল বহু বছরের নিয়ম

নদিয়ার বৈষ্ণবতীর্থ শান্তিপুরের কালীপুজো মানেই এক অন্য আবেগ, আর তার মূল আকর্ষণ বিসর্জনের বিখ্যাত ‘বামা কালীর নাচ’। সাঙ অর্থাৎ বাঁশের তৈরি বিশেষ মাচায় দেবী বিগ্রহ বসিয়ে ভক্তদের কাঁধে তুলে নাচানোর সেই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর ভিড় করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তবে এ বার বিসর্জনের সেই চিরপরিচিত দৃশ্য ও নিয়মে একাধিক কড়া পরিবর্তন আনল নদিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
সম্প্রতি কলকাতার চোরবাগানে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। সেই সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই শান্তিপুরের বামা কালীর ঐতিহ্যবাহী নাচের স্থান ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতির নিয়মে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত শান্তিপুরের বড়বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে ভক্তরা প্রতিমা কাঁধে নিয়ে নৃত্যে মেতে উঠতেন। কিন্তু এ বছর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেই স্থান পরিবর্তন করে বেজপাড়ার ফাঁকা মাঠে নাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি খেলার মাঠকে কাজে লাগিয়ে ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আগামী ৯ নভেম্বর কালীপুজোর পরের দিন এই নাচ অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তার খাতিরে এ বার থেকে সাধারণ ভক্তরা দেবীকে স্পর্শ করতে পারবেন না। এমনকী নাচের সময় নির্দিষ্ট স্থানটিতে পুজো কমিটির সদস্য এবং সাঙ বহনকারী বাহকরা ছাড়া আর কোনও সাধারণ দর্শনার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই নৃত্য আর একেবারেই কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করতে পারবেন না সাধারণ দর্শনার্থীরা।
বিসর্জন প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী, মহকুমা শাসক এবং রানাঘাট পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা শান্তিপুরের নিরঞ্জন ঘাট, বামা কালীর মন্দির ও নতুন নাচের স্থান পরিদর্শন করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নাচের মাঠ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। দূর থেকে সাধারণ মানুষ যাতে বিসর্জন ও নাচের দৃশ্য দেখতে পান, তার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগে একাধিক জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হচ্ছে।