অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ‘সাইক্লোন মুরাসু’! ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ৬—ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসকে সত্যি করে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিয়ে আছড়ে পড়েছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। মৌসম ভবন সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ভোররাত ৩:৩০ থেকে সকাল ৫:৩০-এর মধ্যে ওঙ্গোলের কাছে, নেল্লোর এবং নারসাপুরের মধ্যবর্তী বিশাল উপকূলীয় এলাকায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। তবে ঝড় স্থলভাগে স্পর্শ করার সাথে সাথেই সমুদ্রের বুকে ঘটে গিয়েছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
মাঝসমুদ্রে আটকে ট্রলার, উদ্ধার ৩ মৎস্যজীবীর দেহ
ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর তাণ্ডবে মাঝসমুদ্রে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ৯ জন মৎস্যজীবী। তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলায় ওই ৩ জন মৎস্যজীবীর নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, বাকি ৬ জনের পরিণতি কী হয়েছে তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কার মেঘ জমছে।
জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের কাসিমেদু মৎস্য বন্দর থেকে ওই মৎস্যজীবীদের দলটি ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝসমুদ্রে হঠাৎ করেই তাঁদের ট্রলারে গুরুতর যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। মৎস্যজীবীরা যখন অসহায় অবস্থায় মাঝসমুদ্রে আটকে ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই পূর্ণ শক্তিতে তাঁদের ওপর আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’।
সরকারি উদাসীনতার অভিযোগে তোলপাড়, ৭ লক্ষের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কাসিমেদু এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি তীব্র গণক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ, মৎস্যজীবীরা বিপদে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার কথা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় ও রাজ্য প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও সময়মতো কোনো কার্যকর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়নি। নিখোঁজ একজনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, কেবল সান্ত্বনা আর আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা দীর্ঘ তিন দিন ধরে মন্ত্রীর আশায় পথ চেয়ে বসেছিলেন। কিন্তু চরম বিপদের দিনেও সরকারের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি তাঁদের কাছে পৌঁছাননি।
দুর্ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এই ৩ মৎস্যজীবীর অকালমৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য ৭ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন
ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা জারি হওয়া সত্ত্বেও মৎস্যজীবীদের ওই ট্রলারটি কীভাবে মাঝসমুদ্রে রয়ে গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উপকূলরক্ষী বাহিনী ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা কাঠগড়ায় উঠেছে। যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারির আগেই ট্রলারটি যাত্রা শুরু করে থাকে, তবে দূরবর্তী রেডিও বার্তা বা স্যাটেলাইট যোগাযোগের মাধ্যমে সেটিকে দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলছেন নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের আত্মীয়রা। কাসিমেদু বন্দরে এখন একদিকে স্বজন হারানোর আর্তনাদ, অন্যদিকে নিখোঁজ ৬ জনের ফিরে আসার অলৌকিক আশায় প্রহর গোনা চলছে।