ক্লাসরুমে ঢুকেই আচমকা মৃত্যুর কোলে ৯ বছরের শিশুকন্যা! মর্মান্তিক এই ঘটনায় তোলপাড় স্কুল চত্বর

স্কুল চত্বরে খেলার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সমগ্র এলাকাবাসী। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ময়ূর বিহার ফেজ টু-এর স্বনামধন্য ‘লাভলি হেরিটেজ স্কুলে’ সংঘটিত এই ঘটনায় মাত্র নয় বছর বয়সি এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ক্লাসরুমে জ্ঞান হারিয়ে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের জোরালো অনুমান, আচমকা হানা দেওয়া মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফলেই ওই ছোট্ট শিশুর এমন আকস্মিক প্রাণহানি ঘটেছে।
ঘটনার দিন সকালে খেলাধুলার পর অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই নিজের ক্লাসরুমে প্রবেশ করেছিল ওই নাবালিকা ছাত্রী। স্কুল কর্র্তৃপক্ষের হাতে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটিয়ে যা দৃশ্য ধরা পড়েছে, তা সত্যিই বুক কাঁপানোর মতো। ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, গেম পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ক্লাসে ঢুকেই হঠাৎ নিজের কোমরে হাত দিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায় সে। আর ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্লাসরুমের শক্ত মেঝেতে মুখ থুবড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় সে। সহপাঠী সেই ছাত্রীটিকে আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেই মুহূর্তের মধ্যে তার সহপাঠী ও বন্ধুরা ছুটে আসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ক্লাসের শিক্ষিকারাও। শিশুটির মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে বারবার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও তার কোনো রকম সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির বেগতিক দেখে স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত ওই ছাত্রীকে নিকটবর্তী একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাকে চিকিৎসাধীন করার আগেই অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কথা বলা হয়। এরপর তড়িঘড়ি তাকে নির্মল বিহারের অন্য আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলশিক্ষকদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছাত্রীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী হৃদরোগের কারণেই এই মৃত্যু, তবে আসল ও চূড়ান্ত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসেও দেশের অপরপ্রান্তে অনুরূপ এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল দেশবাসী। রাজস্থানের গোটান এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলেও ঠিক এভাবেই খেলার মাঠে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল অপর এক ৯ বছরের শিশুকন্যা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তখন জানা গিয়েছিল যে, প্রার্থনা সভা শুরু হওয়ার ঠিক আগে স্কুলের মাঠে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে হাসিখুশিভাবে খেলাধুলা করছিল ওই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। হঠাৎই বুকে তীব্র অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভব করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ওই পরিবারটি এর ঠিক চার মাস আগেই তাদের পুত্রসন্তানকেও একইভাবে হৃদরোগে হারিয়েছিল। পরপর এমন অস্বাভাবিক ও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শিশুদের ক্রমবর্ধমান হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে এখন দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকমহল।