সরকারি কর্মীদের আর রক্ষে নেই! ৫০ দিনের ছুটি এক ধাক্কায় কমানোর সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক মহলে তোলপাড়

রাজ্যের সরকারি দফতরে বছরের কর্মদিবস এবং বার্ষিক ছুটির হিসাব নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের জমে থাকা বকেয়া সরকারি ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজের গতিকে বহুগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কাটছাঁট করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের স্পষ্ট ইচ্ছা, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে চালু থাকা প্রায় ৫০ দিনের বিশালাকার ছুটির বহর বদলে ফেলে বার্ষিক মোট ছুটির সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪০ দিনে নামিয়ে আনা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই নবান্নের অর্থ দফতরকে অবিলম্বে একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট ছুটির ক্যালেন্ডার তৈরি করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ছুটির সংখ্যা কমানোর এই বৈপ্লবিক প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থসচিবের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত আলোচনা সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক খসড়ায় প্রথমে ৪৫ দিনের ছুটির একটি তালিকা তাঁর কাছে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক গতি সচল রাখতে সেই সংখ্যাও তাঁর কাছে যথেষ্ট বেশি বলে মনে হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পর্যালোচনা শেষে ছুটির সংখ্যা থেকে আরও পাঁচ দিন কমানোর চরম নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, রাজ্য প্রশাসনের এই নতুন নীতি ও ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়ে গেলে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান আরামদায়ক ছুটির পুরো হিসাবটাই এক ধাক্কায় বদলে যেতে চলেছে।

তবে নবান্নের এই কঠোর পদক্ষেপে উৎসবের মরসুমের ছুটিতেও কোপ পড়তে চলেছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশের মনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন ছুটির তালিকায় ঠিক কোন কোন দিন ছাড় পাবে এবং কোনগুলি বাদ যাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সামাজিক সম্প্রদায়, মনীষীদের স্মারক দিবস এবং লোকজ উৎসবের উদ্দেশ্যে যে ছুটিগুলি একে একে যুক্ত হয়েছিল, সেই সবকটি ছুটির তালিকাই পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যে সমস্ত ছুটির দিন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে, সেই তালিকার মধ্যে রয়েছে শিবরাত্রি, শবেবরাত, করম পুজো, ছটপুজো, ভাইফোঁটা এবং পয়লা বৈশাখের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলি। এর পাশাপাশি বিগত দিনে চালু হওয়া ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা, মহাত্মা হরিচাঁদ ঠাকুর ও বীরসা মুণ্ডার জন্মজয়ন্তীর সরকারি ছুটির উপরও নতুন করে রিভিউ বসছে। এমনকী জামাইষষ্ঠীতে কর্মচারীদের দেওয়া অর্ধদিবস ছুটির বিধানেও কোপ পড়তে পারে বলে জল্পনা জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুর্গাপুজোর মহাবিশাল ছুটির পরিধিও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার অভিযোগ উঠত। এক সময় ষষ্ঠী থেকে ছুটি শুরু হলেও পরে তা চতুর্থী থেকেই বন্ধ হয়ে ভাইফোঁটার পর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতো। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে প্রচুর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলেও বিপুল কাজ জমে রয়েছে, যা মেটাতে বেশি কর্মদিবস জরুরি। অর্থ দফতর চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করলেই এই নতুন বার্ষিক নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *