ছোট নোটের আকাল নিয়ে সোশ্যালে তুফান! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কড়া বার্তায় ঘুম ভাঙল আমজনতার

দীপাবলির উৎসবের ঠিক আগে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের নোটের জোগান ও ঘাটতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর খবর তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। দাবি করা হয়েছিল যে, উৎসবের মরশুমে বাজারে ছোট নোটের চরম সংকট তৈরি হতে পারে এবং এই সংক্রান্ত একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তিও হু হু করে ভাইরাল হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আতঙ্ককে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই দাবির বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।

১. কী দাবি করা হয়েছিল ভাইরাল বিজ্ঞপ্তিতে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, চিঠিটি চলতি বছরের গত ২৭শে অক্টোবর জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দেশে ডিজিটাল লেনদেন মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে নাকি ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোট ছাপানোর কাজ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীপাবলির কেনাকাটার সময় ছোট নোটের তীব্র সংকটে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। এমনকি ওই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য খোদ RBI-এর নাম, লোগো এবং ব্যাংকের গভর্নরের জাল স্বাক্ষর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল।

২. RBI-এর স্পষ্ট সাফাই ও জোরালো প্রতিবাদ
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি RBI-এর নাম ও লোগো অপব্যবহার করে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ছড়াচ্ছে। ব্যাংকের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, দেশে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকা সহ সমস্ত ধরনের কারেন্সি নোটের পর্যাপ্ত মজুত বা স্টক রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ভল্ট এবং কারেন্সি চেস্টে যে পরিমাণ নোট রিজার্ভ আছে, তাতে জোগান ঘাটতির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে শুধুমাত্র RBI-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রকাশিত খবরের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩. সাধারণ মানুষের করণীয় ও সচেতনতা
দীপাবলির বাজারে পুজোর কেনাকাটা, মিষ্টি কেনা থেকে শুরু করে যাতায়াত বা ছোটখাটো লেনদেনে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ফলে এই ধরনের ভুয়া খবর সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সময়োপযোগী ও কড়া স্পষ্টীকরণের পর পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ছোট নোট নিয়ে কোনো ধরনের সরকারি বা অভ্যন্তরীণ সংকট নেই। অযথা ব্যাংক থেকে বেশি নগদ টাকা তুলে রাখার বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে কোনো রকম তথ্য যাচাই না করে এই ধরনের ভুয়া মেসেজ বা বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকারও জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *