এক ইভেন্টের তিনটে পোডিয়ামেই শুধু ভারতের তেরঙা! প্যারা অ্যাথলেটদের অবিশ্বাস্য সাফল্যে কেঁপে উঠল দেশ

এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস সৃষ্টি করা ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সংবর্ধনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশগ্রহণকারী সফল ভারতীয় দলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্যারা-অ্যাথলেটদের অদম্য সাহস ও লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১৪টি পদক থেকে সোজা ১১৪টি পদক জয়ের এই বিশাল উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে আমাদের অ্যাথলেটদের কঠোর পরিশ্রম ও দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো এখন কতটা শক্তিশালী হয়েছে।

১. দেশের মুকুটে যুক্ত হয়েছে ৩০ সোনা সহ ১১৪টি মেডেল

এবারের এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতীয় দল যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, “এবার ভারত জিতেছে ৩০টি স্বর্ণ, ৩৫টি রৌপ্য এবং ৪৯টি ব্রোঞ্জ পদক। এর পাশাপাশি ৫টি নতুন বিশ্ব রেকর্ড এবং ৯টি এশিয়ান রেকর্ড গড়েছেন আমাদের খেলোয়াড়রা। আপনারা গোটা দেশকে গর্বে ভরিয়ে দিয়েছেন।”

সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, এবারের প্রতিযোগিতায় এমন ৪টি ইভেন্ট ছিল যেখানে তিনটি পোডিয়ামেই অর্থাৎ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়—তিনটি স্থানেই শুধু ভারতের পতাকা উড়েছে। ভারত একই ইভেন্টে সোনা, রূপো এবং ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই একসঙ্গে জিতেছে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার শেষ দিনে অ্যাথলেটরা ৯টি সোনা জিতে যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এছাড়া ৫৬ জন মহিলা ক্রীড়াবিদের মধ্যে ৩৪ জনই পদক জয় করে দেশের নারী শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

২. ২০১৪ সালের আগের কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করালেন মোদী

ক্রীড়াজগতের অতীত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালের পর দেশ যখন বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বেশিরভাগ অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের খেলাধুলায় পাঠাতে ভয় পেতেন। তখন পরিকাঠামোর অভাব, সম্পদের অভাব এবং স্বচ্ছতার চূড়ান্ত অভাব ছিল। অনেকেই বলতেন এই ব্যবস্থা দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা যেমন কোনো প্রতিকূলতার মুখে কখনো হাল ছাড়েননি, তেমনি দেশও কেবল তার লক্ষ্যের দিকেই অবিচল থেকেছে।”

৩. তরুণদের প্রতিভা নষ্ট হতে না দেওয়ার সংকল্প

বর্তমান সরকারের ক্রীড়ানীতি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা দেশের তরুণদের প্রতিভা কোনোভাবেই নষ্ট হতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই কারণেই পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা বদলে এমন এক নতুন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা আজ আমাদের খেলোয়াড়দের সাফল্যের সিঁড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে। আজ দেশের কোনো তরুণের যদি নিজের প্রতিভার ওপর আস্থা থাকে, তবে সে নিশ্চিত থাকে যে গোটা দেশ তার পাশে রয়েছে।”

Pratik Saha
  • Pratik Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *