ভুল দিনে প্রদীপ জ্বালালেই বিপদ! কালী চৌদাসের পুজো ও চোদ্দ প্রদীপ দেওয়ার শুভ মুহূর্ত কখন?

সনাতন হিন্দু ধর্মে আলোর উৎসব দীপাবলি কেবল আনন্দ ও উদ্দীপনার উৎসব নয়, বরং এই সময় জুড়ে পালন করা হয় বেশ কিছু অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এই বিশেষ উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘কালী চৌদাস’, যা মূলত বাংলায় ‘ভূত চতুর্দশী’ বা নরক চতুর্দশী নামে বহুল পরিচিত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন অংশে এবং গুজরাট ও সমগ্র পশ্চিম ভারতে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দিনটিতে দেবী কালীর আরাধনা করা হয়।

তবে ২০২৬ সালে কালী চৌদাসের সঠিক তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—উৎসবটি কি ৭ নভেম্বর নাকি ৮ নভেম্বর পালিত হবে? জেনে নিন শুভ তিথি, সময়সূচি ও পুজো পদ্ধতি।

১. ৭ নাকি ৮ নভেম্বর? কালী চৌদাসের সঠিক তারিখ ও শুভ মুহূর্ত

পঞ্জিকা ও বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে ৭ নভেম্বর, শনিবার সকাল ১০:৪৯ মিনিটে এবং এই তিথি শেষ হবে ৮ নভেম্বর, রবিবার সকাল ১১:২৯ মিনিটে।

যেহেতু কালী চৌদাস বা ভূত চতুর্দশীর দিন সন্ধ্যাবেলায় প্রদোষ কালে এবং নিশীথ কালে (মধ্যরাতে) মা কালীর উপাসনা ও চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে, তাই ধর্মীয় বিধান মেনে ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবারই প্রধানত কালী চৌদাস পালন করা হবে।

  • চতুর্দশী তিথি শুরু: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪৯ মিনিট

  • চতুর্দশী তিথি সমাপ্তি: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৯ মিনিট

  • সন্ধ্যায় চোদ্দ প্রদীপ ও পূজার শুভ মুহূর্ত (প্রদোষ কাল): ৭ নভেম্বর বৈকালিক সূর্যাস্তের পর থেকে

২. কালী চৌদাসের বিশেষ পূজাবিধি

কালী চৌদাসের দিন বিশেষ কিছু প্রথা ও নিয়ম পালনের মাধ্যমে নেতিবাচক শক্তি দূর করা সম্ভব হয়।

  • তিল তেলের স্নান (অভ্যঙ্গ স্নান): এই দিন সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে গায়ে তিল তেল বা সুগন্ধি মেখে স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

  • প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: সন্ধ্যার সময় বাড়ির চারপাশে ও প্রবেশদ্বারে চোদ্দটি প্রদীপ (১৪টি দীপা) জ্বালিয়ে অলক্ষ্মী ও অশুভ শক্তিকে দূর করা হয়।

  • মা কালীর আরাধনা: রাতে মা কালীর মূর্তির সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ, দীপ, পুষ্প এবং ভোগ নিবেদন করে মা কালীর বিশেষ মন্ত্র জপ করা হয়।

৩. ধর্মীয় তাৎপর্য ও গুরুত্ব

পুরাণ মতে, কালী চৌদাসের রাতে মা শক্তির বিশেষ রূপ ‘কালী’ রূপে আবির্ভূত হয়ে সংসারের যাবতীয় অশুভ ও নেতিবাচক শক্তিকে বিনাশ করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিন নিষ্ঠা ভরে মায়ের পূজো করলে সাধক বা গৃহস্থের জীবন থেকে ভয়, আরোগ্যের সংকট, অপমৃত্যুর ভয় এবং অশুভ আত্মাদের প্রভাব দূর হয়ে মানসিক শান্তি ও রক্ষা বজায় থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *