দেবী লক্ষ্মীর বাহন বলেই কি পূজিত হয়? বিজ্ঞান বলছে পেঁচা সম্পর্কে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য!

আজকের আধুনিক সমাজেও কাউকে অস সতর্ক বা অজ্ঞ প্রমাণ করতে আমরা অবলীলায় ‘পেঁচা’ বলে ডেকে ফেলি। এমনকি নিত্যদিনের কথাবার্তায় ‘উল্লু বানানো’ (বোকা বানানো) শব্দটি প্রায় একপ্রকার বাগধারায় পরিণত হয়েছে। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, যে পাখিটিকে আমরা হরহামেশাই বোকামির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করি, ধনতেরাস ও দিওয়ালিতে সেই পেঁচাই কিন্তু ধনদেবী লক্ষ্মীর পবিত্র বাহন হিসেবে পুজো পায়!

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—যে পাখিকে সমাজের একাংশ বোকা মনে করে, সে কি আসলেই বুদ্ধিহীন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ? বিজ্ঞান কিন্তু অন্যরকম এবং বেশ চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করছে।

পেঁচাকে কেন বোকা বলে ভুল করা হয়?

বিজ্ঞানীদের মতে, পেঁচাদের ‘বোকা’ বলে মনে করার মূল কারণ হলো তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও স্বভাব।

  • নিশাচর স্বভাব: বেশিরভাগ প্রজাতির পেঁচাই নিশাচর। অর্থাৎ তারা রাতের আঁধারে জেগে থাকে এবং শিকার করে, আর দিনের বেলা গাছের কোটরে বা ঘন পাতার আড়ালে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে।

  • দিনের বেলায় নিস্তেজ ভাব: সূর্যের প্রখর ও উজ্জ্বল আলোতে পেঁচা বারবার চোখের পলক ফেলে এবং কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দিনের আলোতে তাদের এই নিস্তেজ ও অদ্ভুত আচরণ দেখেই সাধারণ মানুষ ধারণা করে নিয়েছিল যে এরা দিনের বেলায় অন্ধ এবং বোকা।

  • শারীরিক গঠন ও রহস্যময়তা: পেঁচার বড় বড় গোল চোখ, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার ভঙ্গিমা এবং রাতের আঁধারে কর্কশ ডাক এক ধরণের রহস্যের জন্ম দেয়, যা থেকে লোকমুখে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও প্রবাদের জন্ম হয়েছে।

আসল বিজ্ঞান কী বলে?

বাস্তবতা কিন্তু একেবারেই উল্টো! বিজ্ঞান বলছে, পেঁচা কোনোভাবেই বোকা পাখি নয়; বরং তারা প্রকৃতির অন্যতম প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন, অত্যন্ত ধূর্ত ও দক্ষ শিকারী।

১. অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি: পেঁচার চোখ এমনভাবে তৈরি যে রাতের ঘুটঘুঁটে অন্ধকারের মধ্যেও এরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম জিনিস স্পষ্ট দেখতে পায়।

২. শব্দ শনাক্ত করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা: এদের শ্রবণশক্তি এতটাই তীক্ষ্ণ যে শুকনো পাতার নিচে হেঁটে যাওয়া ছোট্ট একটি ইঁদুরের পায়ের শব্দও এরা বহুদূর থেকে নিখুঁতভাবে ধরে ফেলতে পারে।

৩. শব্দহীন উড্ডয়ন: পেঁচার ডানার গঠন এমন যে উড়ার সময় কোনো শব্দই তৈরি হয় না। ফলে শিকার ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়ার আগেই তারা মুহূর্তে শিকার ধরে ফেলে।

অতএব, যে পাখিটিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ‘বোকা’ ভাবা হয়েছে, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সে আসলে রাতের আধারের এক অতুলনীয় চতুর ও তীক্ষ্ণ শিকারী!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *